চাহিদা বাড়ায় ভারত, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার প্রধান চালের বাজারগুলোতে রফতানি মূল্য বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আগের চুক্তির কারণে থাইল্যান্ডের চালের দামও চাঙ্গা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভ্যন্তরীণভাবে ধান-চাল কেনা শুরু করেছে দেশের সরকার। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৩৬-৩৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও এ চালের দাম ছিল ৩৩৩-৩৪০ ডলার। অন্যদিকে দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৩৭-৩৪২ ডলারে। রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের চালের দাম কম হওয়ায় বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন সেদিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
চাল রফতানিতে দর বেড়েছে ভিয়েতনামেও। দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম বেড়ে ৪১০-৪১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে একই মানের চাল বিক্রি হয়েছে ৩৯৫-৪০০ ডলারে। হো চি মিন সিটির ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে নতুন করে চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় বাজারে চালের সরবরাহ কমে আসছে। তবে ফিলিপাইনের সঙ্গে সম্প্রতি ১৫ লাখ টন চাল রফতানির একটি বড় চুক্তি করেছে ভিয়েতনাম। এ চুক্তির আওতায় আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ফিলিপাইনে চাল সরবরাহ করবে ভিয়েতনাম। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথমার্ধেই দেশটি ৪ লাখ ৭২ হাজার টনের বেশি চাল রফতানি করেছে।
থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম ৪১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৪৪০-৪৬৫ ডলারে পৌঁছেছে। ব্যাংককের ব্যবসায়ীরা জানান, রফতানিকারকরা আগের করা চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে গিয়ে স্থানীয় মিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে ধান কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবে আগামী মৌসুমে চালের উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের বাজারে চালের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি আগাম ভারি বর্ষণ ও বন্যায় দেশজুড়ে ২ লাখ টনেরও বেশি চাল নষ্ট হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও রাষ্ট্রীয় মজুত বাড়াতেই এই সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।