তবে উৎপাদন কমলেও দেশটিতে খাদ্যশস্যটির সমাপনী মজুদ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী গমের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ায় বৈশ্বিক সমাপনী মজুদও বাড়বে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) বার্ষিক কৃষি আউটলুক ফোরামে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের কৃষি অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান সোয়ারিনজেন শস্য ও তৈলবীজগুলোর আলাদা আলাদা পূর্বাভাস তুলে ধরেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গমের আবাদি জমি সামান্য কমে ৪ কোটি ৫০ লাখ একরে নামতে পারে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ একর। আবাদি জমি কমার পাশাপাশি একরপ্রতি গড় ফলনও কমে ৫০ দশমিক ৮ বুশেলে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে গমের মোট উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে ১৮৬ কোটি বুশেলে দাঁড়াতে পারে। গত বছর দেশটিতে খাদ্যশস্যটির উৎপাদন হয়েছিল ১৯৮ কোটি ৫০ লাখ বুশেল।
ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য হিসেবে গমের চাহিদা বেড়ে ৯৬ কোটি ৯০ লাখ বুশেলে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে এ খাতে বেচাকেনার পরিমাণ ৯৬ কোটি ৭০ লাখ বুশেল। পশুখাদ্য হিসেবে গমের চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও রফতানি ৮৫ কোটি বুশেলে নেমে আসতে পারে, যা আগে ছিল ৯০ কোটি বুশেল। তবে উৎপাদন ও রফতানি কমলেও ২০২৭ সালের ১ জুন নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে গমের সমাপনী মজুদ ৯৩ কোটি ৩০ লাখ বুশেলে পৌঁছার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
এদিকে সয়াবিনের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে সয়াবিনের আবাদি জমি ও উৎপাদন উভয়ই বাড়তে পারে। দেশটিতে সয়াবিনের উৎপাদন ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৪৫ কোটি বুশেলে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভুট্টার আবাদি জমি কমে ৯ কোটি ৪০ লাখ একরে নামতে পারে। এতে ভুট্টার উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি বুশেলে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া ভুট্টার রফতানিও আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।