সমীক্ষার ফলাফল

এআই আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কমেছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর ভয়ে বিশ্বজুড়ে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।

গতকাল প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর মাত্র ৪৪ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে নিজেদের ভালো অবস্থানে বা স্বস্তিতে আছেন বলে মনে করছেন। গ্লোবাল কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠান মার্সার ২০১৮ সালে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। এরপর থেকে এটিই সর্বনিম্ন হার। দুই বছর আগের তুলনায় এ হার বর্তমানে এক-তৃতীয়াংশ কমেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

মার্সারের ‘গ্লোবাল ট্যালেন্ট ট্রেন্ডস ২০২৬’ শীর্ষক এ সমীক্ষা বিশ্বের ১৬টি দেশ ও অঞ্চলের প্রায় ১২ হাজার পেশাজীবীর ওপর চালানো হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের মতো বড় অর্থনীতির দেশের শীর্ষ নির্বাহী, মানবসম্পদ বা এইচআর প্রধান এবং সাধারণ কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অংশ নেয়া ৪০ শতাংশ কর্মীই মনে করছেন ভবিষ্যতে এআইয়ের কারণে তারা চাকরি হারাতে পারেন। এটি তাদের কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় বর্তমানে এ উদ্বেগ ১২ শতাংশ বেড়েছে। কর্মীদের এ আশঙ্কা অমূলক নয়। কারণ ৯৯ শতাংশ উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক মনে করেন, ব্যবসায় এআই ব্যবহারের ফলে কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। এছাড়া ৯৮ শতাংশ নির্বাহী আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পরিবর্তনের আশা করছেন।

অনেক কর্মী কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। প্রায় ৭২ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানে এআই ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এর ফলে ৫৬ শতাংশ কর্মীর কাজের উৎসাহ বা মনোবল কমে গেছে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, কর্মীদের এ মানসিক ও আবেগীয় চাপ দূর করতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। মাত্র ১৯ শতাংশ এইচআর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণের সময় কর্মীদের মানসিক ও আবেগময় পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে কর্মীদের ওপর যে মানসিক চাপ পড়ছে তা কোম্পানিগুলো বুঝতে পারছে না।

জাপানের মতো দেশগুলোতে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে কাজের চাপ কমলেও কর্মীদের সঠিক জায়গায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অনেক সময় কর্মীদের দক্ষতার সঙ্গে মিল নেই এমন কাজ দেয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ উদ্বেগ দূর করতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এখন কর্মীদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আরো বেশি ও স্পষ্ট যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

আরও