এশিয়ার বাইরে এ প্রথম চালু হতে যাচ্ছে জাপানের জনপ্রিয় পপ কালচারের বিনোদনভিত্তিক ব্র্যান্ড পোকেমনের স্থায়ী শপ। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ২০২৯ সালে শপটি চালুর পরিকল্পনা করেছে পোকেমন কোম্পানি। সেখানে পোকেমনভক্তদের জন্য বিশেষ পণ্য ও নানা ধরনের অভিজ্ঞতার সুযোগ থাকবে।
কোম্পানির এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পোকেমনের ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। তবে লন্ডনের শপটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, আকার ও ধরন সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ভিডিও গেম, অ্যানিমেশন সিরিজ, সংগ্রহযোগ্য কার্ড এবং বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও উপহারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে পোকেমন। কয়েক প্রজন্মের দর্শক ও খেলোয়াড়ের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে এ বিনোদনভিত্তিক ব্র্যান্ডের চরিত্রগুলো। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পিকাচু।
জাপানে পোকেমনের বিশেষায়িত শপের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। উত্তরের হোক্কাইডো থেকে দক্ষিণের ওকিনাওয়া পর্যন্ত প্রায় দুই ডজন এমন শপ রয়েছে। এসব শপে পোকেমনের বিভিন্ন চরিত্রের পণ্য কেনার সুযোগ পান ভক্তরা।
লন্ডনের শপটি হবে এশিয়ার বাইরে পোকেমনের প্রথম স্থায়ী বিক্রয় কেন্দ্র। ফলে জাপান, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের পর যুক্তরাজ্য হবে চতুর্থ দেশ, যেখানে পোকেমনের স্থায়ী শপ চালু হবে।
এছাড়া এশিয়ার বাইরের আরো কয়েকটি স্থানে শপ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। তবে নতুন এসব শপ কোন কোন শহরে চালু হবে বা কবে নাগাদ কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
জাপানে পোকেমনের শপ মূলত তিন ধরনের। এর মধ্যে রয়েছে বড় আকারের পোকেমন সেন্টার, মাঝারি আকারের পোকেমন স্টোর ও ছোট পরিসরের পোকেমন সেন্টার স্যাটেলাইট। লন্ডনের শপটি এসব ধরনের কোনটির আওতায় পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কোম্পানির ঘোষণা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কেবল স্মারকসামগ্রী বিক্রির শপ হবে না। বরং পোকেমনভক্তদের জন্য বিশেষ পণ্য কেনা ও নানা ধরনের কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে সেখানে। সব বয়সের ভক্তদের কথা মাথায় রেখেই শপটি সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পোকেমনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়েছে। ভিডিও গেম ও অ্যানিমেশন থেকে শুরু করে সংগ্রহযোগ্য কার্ড এবং বিভিন্ন পণ্যের বাজারে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি রয়েছে। নতুন শপ চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভক্তদের আরো কাছে পৌঁছতে চায় কোম্পানিটি।
লন্ডনের শপটি চালু হতে এখনো কয়েক বছর বাকি। ২০২৯ সালে এটি চালুর পরিকল্পনা থাকায় এর নকশা, অবস্থান ও পণ্যের বিস্তারিত জানতে ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ দীর্ঘ প্রত্যাশিত প্রকল্পটি ইউরোপের পোকেমনপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর জাপান টুডে