বান্দরবানে উৎপাদন বেড়েছে হাইব্রিড ও জুম তুলার

বাংলাদেশে পার্বত্য অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অর্থকরী কৃষিপণ্যের মধ্যে অন্যতম জুম তুলা।

একসময় বান্দরবানের পাহাড়ে এ তুলার ব্যাপক আবাদ হতো। জুম পদ্ধতিতে ধান, মারফা, ভুট্টা, আদা, হলুদ ও মরিচের সঙ্গে মিশ্র ফসল হিসেবে চাষ হতো তুলা। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীপথে সে তুলা চট্টগ্রামের দোহাজারী ও চকরিয়া বাজারে যেত। সেখান থেকে সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে সময়ের আবর্তনে পাহাড়ের প্রকৃতি পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের ফলে চাষ পদ্ধতিতেও এসেছে বড় বদল।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১২ সালে দেশে তুলা আমদানি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তুলা গবেষণা কেন্দ্রে উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল একাধিক জাতের হাইব্রিড তুলার আবাদ শুরু হয়। এর পর থেকেই জেলায় হাইব্রিড তুলার উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকে। পাশাপাশি অব্যাহত থাকে ঐতিহ্যবাহী জুম তুলার আবাদও। এক দশকে বান্দরবানে চাষীর সংখ্যা প্রায় ৫ শতাংশ কমলেও হাইব্রিড ও জুম তুলার মোট আবাদ ও উৎপাদন বহু গুণ বেড়েছে। ২০১০ ও ২০১১-এ দুই বছর জেলার রুমা উপজেলায় প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড তুলার আবাদ করা হয়। সাফল্য পাওয়ার পর ২০১২ সালে মাঠপর্যায়ে এর বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়। বোর্ডের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, প্রতি বছর আবাদের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে জেলায় তুলাচাষীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৭২৮। সে সময় ৫ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে মোট ৮২০ টন তুলা উৎপাদন হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে চাষীর সংখ্যা কিছুটা কমে ৫ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়ালেও উৎপাদন অনেক বেড়েছে। ৫ হাজার ৯৪৯ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৩৮ কেজি তুলা উৎপাদন হয়েছে।

বান্দরবান বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন মৃধা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জুমের সাথি ফসল হিসেবে প্রতি একরে জুম তুলা এক মণও পাওয়া যায় না। একই পদ্ধতিতে আপল্যান্ডে (উঁচু ভূমি) হাইব্রিড তুলা চাষ করলে তিন থেকে পাঁচ মণ ফলন মেলে, যা প্রায় তিন-চার গুণ বেশি। একক চাষে জমির মাটিভেদে প্রতি একরে গড়ে ২৫-৩৫ মণ হাইব্রিড তুলা পাওয়া যায়। কিন্তু পাহাড়ি তুলার একক চাষ হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জুম তুলা মূলত প্রাকৃতিক (অর্গানিক) ও মানসম্পন্ন জাত। মোটা বস্ত্র, কম্বল ও ব্যাগ তৈরিতে এটি ব্যবহার হয়। একসময় এটি রফতানি হলেও এখন আর হচ্ছে না। জুম তুলার গাছ দেখতে পিরামিড আকৃতির হয়। এগুলো খরাসহিষ্ণু হয় এবং এর বোল সহজে ঝরে পড়ে না। গাছে ফল পাকলে তা ফেটে গিয়ে তুলা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে থাকে বলে একে সূর্যকন্যা নামেও ডাকা হয়।’

বান্দরবান পাহাড়ি তুলা গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মংসানু মারমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আবাদের ফলে একদিকে যেমন মাটির উর্বরতা কমছে, অন্যদিকে জুম তুলার জাতের বলিষ্ঠতা ও উৎপাদনশীলতা কমেছে। তাই গবেষণা কেন্দ্রে এইচসি-১, এইচসি-২ ও এইচসি-৩ (হিল কটন বা পাহাড়ি তুলা) নামে তিনটি দেশী জাত নিয়ে নিবিড় গবেষণা চলছে। পাশাপাশি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাত নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।’

আরও