ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে বিশ্ববাজারে আজ সর্বনিম্নে নেমেছে জ্বালানি তেলের দাম। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের বৈঠককে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলেও সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। খবর রয়টার্স।
আজ দিনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক আদর্শ ব্রেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১০ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্নে নেমে আসে। বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে নভেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ৯ সেন্টে দাঁড়ায়, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় দাম ১ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। গত শুক্রবার ব্রেন্টের দাম কমেছিল শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ।
আগামীকাল শেষ হতে যাওয়া অক্টোবর সরবরাহ চুক্তিতে ডব্লিউটিআই ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৯৮ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমেছে। আগের সেশনে দাম কমেছিল ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘মনে হচ্ছে, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পথ তৈরি হতে পারে—এমন আশায় তেলের দামে ঝুঁকির প্রিমিয়ামের কিছুটা কমে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এই আশা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটি অবশ্য ভিন্ন প্রশ্ন। সময়ই তা বলে দেবে।’
ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক এক ব্রোকার জানিয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার এক দিন আগে কিছু বিনিয়োগকারী অক্টোবরের চুক্তির অবস্থান নভেম্বরের চুক্তিতে সরিয়ে নিতে পারেন।
এদিকে গতকালও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে নতুন করে হুমকি দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে পেজেশকিয়ানের।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ী গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনায় ফিরতে ইরান তার শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনো তীব্র। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা জানিয়েছে, শনিবার তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়েছে। ইয়ানবু দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র।