তিনি বাণিজ্য-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ, আলোচনা এবং ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসি বাংলাদেশ) নেতাদের সঙ্গে সোমবার এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আইসিসি বাংলাদেশের সচিবালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) বিষয়ে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য ও সেবা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ক্রয়াদেশ, কৃষিপণ্য ও তুলা আমদানি বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ।’
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তৈরি পোশাক খাতে সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) এবং টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতে জোর দেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এআরটি চুক্তি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা ও গণমাধ্যমের পর্যালোচনা একটি স্বাভাবিক বিষয়। চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও এটির মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো ভারসাম্যপূর্ণ, টেকসই এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ চুক্তি উভয় দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের জন্য শুল্কবহির্ভূত (নন-ট্যারিফ) বাধা দূর করা এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্যনীতি এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দেশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি রুপালী চৌধুরী এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি রুবানা হক ও মো. ফজলুল হক।