জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে ব্যর্থ বৈশ্বিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো

উষ্ণায়নজনিত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ‍গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বেসরকারি জায়ান্টগুলোর।

উষ্ণায়নজনিত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে ‍গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বেসরকারি জায়ান্টগুলোর। তাই কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রায় তারা বড় অংশীদার। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসরণ কমানো তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত ঠিকমতো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারেনি বলে নিট জিরো ট্র্যাকার গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, ১০০টি বৃহত্তম বৈশ্বিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকেরও কম শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সে তুলনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতা বেশি। খবর আরব নিউজ।

২০১৫ সালে প্যারিসের সম্পন্ন হওয়া জলবায়ু চুক্তি অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পযুগের চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু জলবায়ু পর্যবেক্ষক সংস্থা নিট জিরো ট্র্যাকারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১০০টি বড় কোম্পানির মাঝে মাত্র ৪০টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সংস্থার প্রকল্প প্রধান জন ল্যাংয়ের মতে, সরকারি সংস্থার তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পূরণে পদক্ষেপ নেয়ার হার ধীর। বাজার ও প্রতিষ্ঠানের সুনামের ওপর চাপ না থাকায় তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এছাড়া জলবায়ু মোকাবেলায় অনিয়মিত কার্যক্রমও অনাগ্রহের কারণ হতে পারে।

প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি ও বেসরকারি ২০০টি প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাদের কার্বন নিঃসরণ হ্রাস কৌশল ও নিট শূন্য লক্ষ্যমাত্রাকে বিবেচনায় আনায় এ সময়। ফলাফল হিসেবে দেখা গেছে, ১০০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪০টি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। অন্যদিকে ১০০টি সরকারি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৭০টি নিট শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বেসরকারি যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তাদের মধ্যে মাত্র আটটি লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নিট জিরো ট্র্যাকার বলছে, পরিকল্পনা ছাড়া অঙ্গীকার কোনো অঙ্গীকারই নয়, এটি প্রচারণা কৌশলমাত্র।

জরিপে অংশ নেয়া আসবাবপত্র নির্মাতা জায়ান্ট আইকিয়া ও ইউএস ইঞ্জিনিয়ারিং জায়ান্ট বেচটেল নিট জিরো লক্ষ্য অর্জনের বিতর্কিত কার্বন ক্রেডিট ব্যবহার করার কথা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্বন নিঃসরণের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে কার্বন ক্রেডিট নেয়া হয়। সে ক্ষতিপূরণ বা কার্বন ক্রেডিট পরবর্তী সময়ে বন সংরক্ষণের মতো এমন কিছু প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়, যা কার্বন নিঃসরণ হ্রাস বা প্রতিরোধ করে। তবে সমালোচকরা যুক্তি দেন যে এটি সংস্থাগুলোকে দূষণ চালিয়ে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।

এছাড়া আটটি জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির  কোনটিই নিট শূন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি, যেখানে একই খাতের বৃহত্তম সরকারি সংস্থাগুলোর ৭৬ শতাংশ তা করেছে। জন ল্যাং বলেন, ‘‌বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০২২ সালে পরিচালিত বিশ্লেষণের তুলনায় গত বছরে অগ্রগতি ছিল নিতান্তই কম।’

নিট জিরো ট্র‌্যাকারের জন ল্যাং বলেন, ‘‌বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জরিপে বিশ্লেষণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর হিস্যা প্রায় ২৩ শতাংশ। এদের বেশির ভাগই চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউ রাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে এরই মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে নীতিগত সিদ্ধান্ত এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও সিঙ্গাপুরে ২০২৭ সাল থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জলবায়ুবিষয়ক দুটি প্রবিধান প্রবর্তন করেছে। এর আওতায় শিগগিরই হাজার হাজার কোম্পানিকে প্রতিবেদন তৈরি ও নিঃসরণ কমানোয় বাধ্য করা হবে।

আরও