অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কোটা বা নির্ধারিত সীমা নভেম্বরে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেকপ্লাস। একই সময়ে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কমিয়েছে সৌদি আরব। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পরিবহনে সংকট তৈরি হওয়ার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। খবর রয়টার্স।
অনলাইন বৈঠকে গত রোববার এ সিদ্ধান্ত নেয় ওপেকপ্লাসভুক্ত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান।
চলতি বছর ওপেকপ্লাস কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এর বড় অংশই বাস্তবে বাজারে আসেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপেকপ্লাসভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি তেল রফতানিও স্বাভাবিক মাত্রার ৬০-৮০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্টাউনোভো বলেন, ‘ওপেকপ্লাস অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলনসীমা অপরিবর্তিত রেখেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও উত্তোলন কোটা এখনো নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো সংকটপূর্ণ।’
ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, সাতটি দেশ আগস্টে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। জুলাইয়ের তুলনায় তা ৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বেশি। তবে ফেব্রুয়ারির যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় তেল উত্তোলন সীমা এখনো দিনে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কম।
অন্যদিকে এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি সৌদি আরামকো। নভেম্বরে এশিয়ার বাজারে সৌদির প্রধান গ্রেড ‘আরব লাইট’ তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩ ডলার কমানো হয়েছে। ফলে ওমান ও দুবাইয়ের গড় দামের চেয়ে সৌদি তেলের দাম ৫ ডলার কম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের জুনের পর এটিই সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়।
কিন্তু বাজার বিশ্লেষকরা বরং দাম বাড়বে বলে ধারণা করেছিলেন। রয়টার্সের এক জরিপে সর্বোচ্চ ৫ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া এশিয়ার জন্য আরব মিডিয়াম ও আরব হেভি তেলের দামও ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার কমিয়েছে আরামকো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নৌপথে রুটিন শিপিং খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার ক্রেতাদের স্বস্তি দিতেই এ মূল্যছাড় দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহনে সক্ষম বিশাল জাহাজ (ভিএলসিসি) ভাড়ার খরচ দিনে প্রায় ১২ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা মাত্র এক বছর আগেও ছিল ৮০ হাজার ডলার।
অন্যদিকে ইউরোপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশগুলোর জন্য সৌদির সব ধরনের তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপশি ওপেকপ্লাসের দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল কম উত্তোলনের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। সদস্য দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি উত্তোলন সক্ষমতা পর্যালোচনার সময়সীমা পিছিয়ে যাওয়ায় আগামী বছরের আগে জোটটির নীতিতে বড় পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।