ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বে জ্বালানির মজুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক মজুদ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে নতুন করে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা সামাল দেয়া কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) প্রধান নির্বাহী সুলতান আল জাবের। খবর রয়টার্স।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম এক্সিবিশন অ্যান্ড কনফারেন্সে (এডিআইপিইসি) তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। আল জাবের বলেন, ‘বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে ডিজেলের মজুদ মৌসুমভিত্তিক হিসাবে ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। অন্যদিকে কিছু বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০০ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি ঘনফুটে।
এডনক-প্রধান বলেন, ‘জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশগুলোকে কৌশলগত মজুদ আরো বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের মজুদ ও ভোক্তাবাজারের কাছাকাছি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। সংকট দেখা দেয়ার আগেই অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিনিয়োগের আরো বাড়াতে হবে।’
যুদ্ধের আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে ৫ শতাংশ ছিল পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয়। এখন তা বেড়ে ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১০ ডলারে উঠেছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের গত মাসে জানান, বিশ্বে বাণিজ্যিক জ্বালানি তেলের মজুদ ৬০০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমেছে। এর বড় অংশই তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী নয়। ফলে নতুন সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় বিশ্ববাজারের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বাড়ছে উদ্বেগ।