পাঁচ ব্রোকারেজের বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত শুরু হচ্ছে কাল

এ পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ কাল থেকে ফেরত দেয়া শুরু হচ্ছে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজ জালিয়াতির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে মশিহুর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ ও শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। এ পাঁচ ব্রোকারেজ হাউজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ কাল থেকে ফেরত দেয়া শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের উপস্থিতিতে আগামীকাল ডিএসই কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

তথ্যানুসারে, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) থেকে গ্রাহকদের এ অর্থ ফেরত দেয়া হবে। পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধ করবে ডিএসই। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী বা গ্রাহক তাদের বিনিয়োগের পুরো টাকা ফেরত পাবেন। এরই মধ্যে এ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশকে আইপিএফ ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পাওনা কাল থেকে পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। এতে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর শতভাগ পাওনা পরিশোধ করা হয়ে যাবে। এর পাওনার মোট পরিমাণ ৭২ কোটি টাকা। বাকি ৫৯৫ জন বড় বিনিয়োগকারীর অবশিষ্ট পাওনা টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর শেয়ার, সম্পত্তি ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি অর্থ পরিশোধের আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে মশিহুর সিকিউরিটিজের যাচাই করা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের টাকা আইপিএফ থেকে দেয়া হবে। অন্য চার প্রতিষ্ঠানের যাচাই করা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অবশিষ্ট পাওনা টাকা পরে ঘোষিত সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ‘দেশের পুঁজিবাজারের জন্য এটি একটি মাইলফলক ঘটনা। অনেকে তাদের জীবনের সঞ্চয় বা পেনশনের টাকা এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। ফলে ডিএসইর এ পদক্ষেপে বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের হারানো আস্থা অনেকটাই পুনরুদ্ধার হবে।’

আরও