অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা বাড়াতে ব্যবহারকারীর বয়স শনাক্তে জোর দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। এ কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারও বাড়ছে। তবে বয়স যাচাইয়ের এ পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ। খবর এপি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শিশুদের জন্য অনলাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরির উদ্যোগে বয়স শনাক্ত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ কোনো ব্যবহারকারী শিশু কিনা, সেটি জানা না গেলে তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা কঠিন। এ কারণে মেটা, গুগল, টিকটক ও রোবলক্সসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা জোরদার করছে।
সম্প্রতি মেটা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও কয়েকটি মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের একটি সমঝোতা পৌঁছেছে। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলার পর এ সমঝোতা হয়। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারকারীর বয়স শনাক্তকরণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মেটা বর্তমানে পরিচয়পত্রের মাধ্যমে বয়স যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। তবে এ ধরনের পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ব্যক্তিগত নথি দিতে হয়। এতে গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেটা জানায়, বয়স যাচাইয়ের জন্য দেয়া পরিচয়পত্র ৩০ দিনের মধ্যে মুছে ফেলা হবে।
এর বাইরে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এআই ব্যবহার করে বয়স অনুমানের চেষ্টা করছে। তবে এটি সরাসরি বয়স যাচাই নয়। এআই কোনো ব্যক্তির জন্মতারিখ নিশ্চিত করতে পারে না। বরং বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর বয়স সম্পর্কে ধারণা করে।
ইনস্টাগ্রামেও এআই ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে জন্মদিনের অনুষ্ঠান বা স্কুল নিয়ে করা পোস্ট, কোন পোস্টে ব্যবহারকারী লাইক বা মন্তব্য করছেন ও কোন পোস্টে কতক্ষণ সময় দিচ্ছেন, এসব তথ্য থাকতে পারে। এমনকি কখন ব্যবহারকারী অনলাইনে আসছেন, সেটিও বিবেচনায় নেয়া হয়। যেমন স্কুল চলার সময় কোনো ব্যবহারকারী নিয়মিত অফলাইনে থাকলে তাকে স্কুলপড়ুয়া হিসেবে দেখা হতে পারে।
তবে এসব প্রযুক্তি সবসময় নির্ভুল নয়। কিছু ব্যবহারকারী বয়স শনাক্তে ভুলের অভিযোগ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা নিয়ে। সমালোচকদের মতে, অনলাইনে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হলে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতে পারে।