গত বছর জাপানে রেকর্ডসংখ্যক সেলুন দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। খবর জাপান টাইমস।
২০২৫ সালে জাপানে মোট ২৩৫টি সেলুন দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে, যা একটি নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৪ সালে ২১৫টি সেলুন দেউলিয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে জাপানের ৪৯ শতাংশ সেলুনের বয়স ১০ বছরের কম। কভিড-১৯ মহামারীর সময়ও জাপানের সেলুন ব্যবসায়ীদের অবস্থা এত করুণ ছিল না। কারণ ওই সময় সরকার বিভিন্ন ধরনের অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণের সুবিধা দিয়েছিল। ফলে ২০২১ সালে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ কমে মাত্র ৬৮টিতে নেমেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বাজার বিশ্লেষকরা।
জাপানে সেলুন ব্যবসাকে ২০০৮ সালের আগে বেশ স্থিতিশীল মনে করা হতো। কারণ এটি একটি অপরিহার্য সেবা। কিন্তু মন্দার সময় মানুষ খরচ কমাতে শুরু করে। ঠিক সে সময় ‘কিউবি হাউজ’-এর মতো ডিসকাউন্ট-ভিত্তিক সেলুনগুলোর আবির্ভাব ঘটে। দোকানগুলো অনেক কম দামে সেবা দিতে শুরু করে। ফলে পুরনো ও নামি সেলুনগুলো বিপাকে পড়ে যায় এবং দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়।
বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মানুষ ফের সস্তায় জীবনধারণের পথ খুঁজছে। কিন্তু সেলুন মালিকরা জানান, তাদের জন্য খরচ কমানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে চুলের প্রসাধনীসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। ফলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দাম কমানো তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
পাশাপাশি সেলুনের জন্য পর্যাপ্ত কর্মীও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষ কর্মীরা এখন বড় চেইন শপ বা নামি সেলুনগুলোয় কাজ করতে পছন্দ করেন। সেখানে বেতন বেশি ও চাকরির নিরাপত্তা আছে।
অনেকের মতে, জাপানে সেলুনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সেলুন রয়েছে। সেলুনের এ সংখ্যা কত বড় তা বোঝাতে ট্রাফিক লাইটের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। পুরো জাপানে ট্রাফিক লাইট আছে ২ লাখ ১০ হাজারটি। এমনকি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুদি দোকানের সংখ্যা ৫৫ হাজার।