গাড়ির নম্বরপ্লেট জালিয়াতির ঘটনা বাড়ছে যুক্তরাজ্যে। অন্য গাড়ির নম্বরপ্লেট নকল করে ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে নিরপরাধ গাড়ির মালিকদের। গত বছর এ ধরনের ঘটনায় জরিমানার বিরুদ্ধে দেশটির ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সির (ডিভিএলএ) কাছে অভিযোগ করেছেন ১১ হাজার ৪০০ জনের বেশি চালক। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে দেশটির মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
আরএসি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, ২০২৫ সালে ‘ভুলভাবে’ জরিমানা আরোপের বিষয়ে অভিযোগের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই গাড়ির নম্বরপ্লেট নকলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নম্বরপ্লেট নকলের এ পদ্ধতিতে অপরাধীরা অন্য গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে। ফলে ট্রাফিক নজরদারি ক্যামেরায় অপরাধের ছবি ধরা পড়লেও প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই নম্বরপ্লেটের কারণে জরিমানা চলে যায় নিরপরাধ গাড়ির মালিকের কাছে্। এদিকে এসব ঘটনা বাড়ায় যুক্তরাজ্যের সড়কে অবৈধ নম্বরপ্লেটের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে অনেকে পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতে পারছে। একই সঙ্গে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যে নিয়ম অনুযায়ী, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নতুন নম্বরপ্লেট নিতে গাড়ির নিবন্ধনসংক্রান্ত নথি (ভি৫সি) ও পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। এ নিয়মের উদ্দেশ্য হলো বৈধ গাড়ির মালিক ছাড়া অন্য কেউ যেন সহজে নম্বরপ্লেট তৈরি করতে না পারে।
তবে গত বছর পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে ১৩০টির বেশি অনুমোদিত নম্বরপ্লেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জাল নম্বরপ্লেট বিক্রি করেছে।
নম্বরপ্লেট নকলের পাশাপাশি ‘ঘোস্ট’ নম্বরপ্লেটের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এগুলো স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরায় (এএনপিআর) ঠিকভাবে ধরা পড়ে না।
যুক্তরাজ্যের সড়কে এ ধরনের প্রায় ১৮ হাজার ক্যামেরা রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে গাড়ির নম্বরপ্লেট শনাক্ত করে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা হয়। গতিসীমা লঙ্ঘন, নির্দিষ্ট লেন ব্যবহারের নিয়ম ভাঙা ও স্মার্ট মোটরওয়েতে লেন বন্ধ থাকার নির্দেশ অমান্য করার মতো ঘটনা শনাক্ত করতে এসব ক্যামেরা ব্যবহার হয়।
কিন্তু নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট করে রাখলে বা ক্যামেরায় শনাক্ত করা কঠিন হয় এমন নম্বরপ্লেট ব্যবহার করলে অপরাধীদের শনাক্ত করা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ট্রাফিক আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যায়।