চলতি মৌসুমে বিশ্বে কফির উৎপাদন চাহিদার চেয়ে ৮-১০ লাখ বস্তা বেশি হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোকো উৎপাদনকারী দেশ ঘানায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুরনো গাছ, রোগবালাই, খারাপ আবহাওয়া ও পরাগায়নের সমস্যায় দেশটির কোকো উৎপাদন কমতে পারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও টুডে প্রেস।
ব্রাজিলের কফি রফতানিকারক পরিষদের চেয়ারম্যান মার্সিও ফেরেইরা বলেছেন, ‘চলতি মৌসুমে বিশ্বে কফির উদ্বৃত্ত প্রায় ১০ লাখ বস্তা হতে পারে। তবে উৎপাদন কমে গেলে এ উদ্বৃত্ত ৮ লাখ বস্তায় নেমে আসতে পারে। উৎপাদন বেশি হলেও বাজারে দ্রুত কফি সরবরাহ বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্রাজিলের উৎপাদকদের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় তারা নতুন ফসল বিক্রিতে তাড়াহুড়া না করে ভালো দামের অপেক্ষা করতে পারেন।’
দেশটির ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স ব্রাজিলের কফি উৎপাদনের পূর্বাভাস ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ কোটি ৭২ লাখ ব্যাগ নির্ধারণ করেছে।
এদিকে কফির বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ লেনদেনে অ্যারাবিকা কফির দাম ছিল পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার ৯০ সেন্ট। এটি পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। অনুকূল আবহাওয়া ও সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশায় এ দরপতন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। ব্রাজিলে বৃষ্টিপাত ও রফতানি বাড়ায় স্বল্পমেয়াদি কেটেছে সরবরাহ সংকট। রোবাস্তা কফির দামও ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৩৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে কোকোর বাজারে পরিস্থিতি ভিন্ন। ঘানায় ২০২৬-২৭ মৌসুমে কোকো উৎপাদন ১৮ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান কোকো মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, আগামী মৌসুমে উৎপাদন ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে। আগের মৌসুমে দেশটিতে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার টন।
ঘানার কোকো বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইজডম কোফি ডগবে বলেন, ‘দেশটির কোকো খাতে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। অনেক গাছ পুরনো হয়ে গেছে এবং রোগ-বালাইয়ের সমস্যাও রয়েছে। পাশাপাশি গত প্রায় দুই দশকে এমন দুর্বল পরাগায়ন দেখা যায়নি।’
কোকোর উৎপাদন কমার আশঙ্কায় জুনের পর থেকে লন্ডন ও নিউইয়র্কের বাজারে কোকোর দাম প্রায় ৭৫-৮০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বিশ্ববাজারে কোকোর মজুদ তুলনামূলক বেশি থাকায় উৎপাদন কমার ধাক্কা কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।