কমিশন সভায় ডিরেক্ট লিস্টিং বিধিমালার খসড়া অনুমোদন

আইপিও ছাড়াই পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিধান

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অনুমোদিত কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে এমন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও ছাড়াই বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দিতে নতুন বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন অন্তত ১০-২০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি আইপিও ছাড়াই স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। গতকাল বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে গতকাল কমিশনের সভাকক্ষে ১ হাজার ২৭তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ ডিরেক্ট লিস্টিং) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনমত যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি পত্রিকা ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন হলে সেই কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। এছাড়া বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিও ডিরেক্ত লিস্টিংয়ের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অনুমোদিত কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে এমন টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো অথবা উৎপাদনকারী কোম্পানিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি কমপক্ষে তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানি এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদসম্পন্ন কোম্পানিও এ সুযোগ পাবে। তবে ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য এসব কোম্পানিকে কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও কেন্দ্রীয় কাউন্টারপার্টি নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।

এছাড়া জেড শ্রেণীর কোম্পানির স্পন্সর বা পরিচালকদের শেয়ার বা ইকুইটি সিকিউরিটিজ লেনদেন ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের ২০২৪ সালের ২০ মে জারি করা নির্দেশনার প্রাসঙ্গিক বিধান পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সংশোধন অনুযায়ী, ঋণখেলাপির কারণে কোনো শেয়ার বাজেয়াপ্ত এবং শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো প্রযোজ্য তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠানোর উদ্দেশ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে দ্বৈত কর পরিহার সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই লভ্যাংশ পাঠাতে হবে। এছাড়া স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক লভ্যাংশ পরিপালন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে লভ্যাংশ পরিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

অন্যদিকে, আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের দাখিল করা কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিএসইসি। কর্মপরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, ব্যবস্থা উন্নয়ন ও অবকাঠামো তৈরি, লেনদেন নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিএসইর এ কর্মপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা কমিশন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রাথমিক ডেরিভেটিভস পণ্য হিসেবে সূচকভিত্তিক ফিউচার দিয়ে লেনদেন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্যের আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করছে কমিশন।

আরও