কিন্তু সে শূন্যস্থান পূরণের জন্য পর্যাপ্ত তরুণ জনশক্তি নেই। এ সংকট মোকাবেলায় দেশটি এখন ব্যাপকভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকছে। বার্লিনভিত্তিক থিংকট্যাংক বেরটেলসম্যান ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির অর্থনীতি সচল রাখতে প্রতি বছর ২ লাখ ৮৮ হাজার বিদেশী কর্মী প্রয়োজন। অন্যথায় ২০৪০ সালের মধ্যে দেশটির শ্রমশক্তি ১০ শতাংশ কমে যেতে পারে। খবর বিবিসি।
জার্মানিতে ভারতীয় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ২০২১ সালে। সে সময় দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির ফ্রাইবার্গ চেম্বার অব স্কিলড ক্রাফটসে ভারত থেকে একটি ই-মেইল আসে। সে বার্তায় জানানো হয়, ভারতে অনেক উদ্যমী তরুণ রয়েছে যারা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী। সংস্থাটির তৎকালীন কর্মকর্তা হানড্রিক ফন উঙ্গের্ন-স্টার্নবার্গ জানান, সে সময় জার্মানির অনেক নিয়োগকর্তা কর্মী না পেয়ে দিশাহারা ছিলেন। তাই তারা ভারতের প্রস্তাবটি লুফে নেন।
জার্মানির মাংস প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে কর্মী সংকট শুরু থেকেই সবচেয়ে বেশি ছিল। সে দেশে ২০০২ সালে ১৯ হাজার পারিবারিক মাংসের দোকান বা ব্যবসা ছিল। ২০২১ সালে তা কমে মাত্র ১১ হাজারে দাঁড়ায়। স্থানীয় তরুণরা এ ধরনের কঠোর পরিশ্রমে আগ্রহী ছিল না। স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী সমিতির প্রধান জোয়াকিম লেডারার বলেন, ‘২৫ বছর ধরে তরুণরা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। ভারত থেকে আসা কর্মীরাই এখন আমার ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।’
জার্মানির এ কর্মী সংকটের বড় সমাধান হতে পারে ভারতের বিশাল জনশক্তি। নিয়োগকারী সংস্থা ম্যাজিক বিলিয়নের প্রধান অদিতি ব্যানার্জি বলেন, ‘ভারতে ২৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৬০ কোটি মানুষ আছে। সেখানে প্রতি বছর মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ নতুন করে কর্মসংস্থানে যোগ দেয়। ফলে দেশটিতে বিশাল উদ্বৃত্ত জনশক্তি রয়েছে।’
জার্মানি ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালে মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির ফলে দক্ষ ভারতীয়দের জন্য জার্মানিতে কাজ করা সহজ হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে জার্মানি ঘোষণা করে যে দেশটি ভারতীয়দের জন্য দক্ষ কর্মসংস্থান ভিসার কোটা বছরে ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজারে উন্নীত করবে। সরকারি হিসাব মতে, ২০১৫ সালে জার্মানিতে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৩২০ জন। ২০২৪ সালে সে সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৭০ জনে দাঁড়িয়েছে।