১৫তম বিআইআইডি এক্সপোর দ্বিতীয় দিন

সৌরবিদ্যুৎ থেকে স্মার্ট গ্রিড, এক ছাদের নিচে নতুন প্রযুক্তি সমাধান

জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বাস্তবতায় বিশ্ব এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।

এ পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সৌরশক্তি। এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বিকল্পই নয়; বরং এটি এখন টেকসই অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে আরো ত্বরান্বিত করতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইআইডি) এক্সপো অ্যান্ড ডায়ালগ ২০২৬’। এতে দেশী-বিদেশী শতাধিক প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থাসহ আধুনিক ও উদ্ভাবনী নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধান প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে রয়েছে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, স্মার্ট গ্রিড ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে ছিলে শিল্প-কারখানার অটোমেশন প্রযুক্তি, সবুজ নির্মাণসামগ্রী, লিফট-এস্কেলেটর, শিল্প প্যাকেজিং প্রযুক্তিসহ অবকাঠামো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী পণ্য। বিভিন্ন স্টলে এসব প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক সমাধান ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন গতকাল সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকে। পরিবার নিয়ে মেলায় আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিমেল বলেন, ‘আমার একটি ছোট প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমি ছোট পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দিতে চাই, তাই এ মেলায় এসেছি। নান্দনিক আয়োজনের এ মেলায় এসে নিজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছি, যা আমার পরিকল্পনায় কাজে লাগবে।’

প্রদর্শনীতে ছোট পরিবারের জন্য ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ থেকে শুরু করে বৃহৎ উৎপাদন কারখানার সোলার প্লান্ট স্থান পেয়েছে। শেনজেন আইনেজি টেকনোলজি কোম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার রাসেল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের যেমন ছোট্ট বা একক পরিবারের জন্য সৌরবিদ্যুৎ সংযোগের প্রযুক্তি রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় কারখানার সোলার সেটআপ। এ প্রযুক্তিতে সৌরবিদ্যুৎ সুবিধার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকেও বিদ্যুৎ সংযোগের সুবিধাও রয়েছে।’

সোলারিক গ্রুপের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা মূলত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ করে রুফটপ সোলার সিস্টেম ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কেলে গ্রিন এনার্জি সমাধান নিয়ে কাজ করি।’ তার মতে, প্রতিষ্ঠানটি শিল্প-কারখানা, ইপিজেড ও বড় কারখানায় সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপন করে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও নেট জিরো এমিশনস অর্জনে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার প্রযুক্তিও তারা বাস্তবায়ন করছে।

প্রদর্শনীর আয়োজক এক্সপোনেন্ট এক্সিবিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি, যেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামো, নির্মাণপ্রযুক্তি এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একই ছাতার নিচে তাদের প্রযুক্তি, পণ্য ও সমাধান তুলে ধরতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ আয়োজন শুধু পণ্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ব্যবসায়িক সংযোগ, জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি কার্যকর ক্ষেত্র। আমরা আশা করছি, দেশী-বিদেশী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে নতুন অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

তিনদিনের এ প্রদর্শনীতে ১২ দেশের প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। আর এর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বণিক বার্তা।

আরও