বিশ্ববাজারে দুধের প্রোটিনসমৃদ্ধ পণ্যের চাহিদা বাড়ায় ননিছাড়া গুঁড়া দুধের (স্কিমড মিল্ক পাউডার) দাম বেড়ে ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) নিলামে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে বাজারে প্রতি টন গুঁড়া দুধ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৭ ডলারে। একই সময়ে জিডিটির সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। বিশ্ববাজারে গত ছয় নিলামে গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বা টনে প্রায় ৭০০ ডলার। ফ্যাট বা চর্বি কম থাকলেও এতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় পণ্যটির চাহিদা বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
ইউক্রেনের কৃষিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইউক্রেন এগ্রোকনসাল্ট, আয়ারল্যান্ডভিত্তিক অ্যাগ্রিল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ফারমার্স উইকলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ নিলামে গুঁড়া দুধজাতীয় পণ্যের দাম বাড়লেও মাখন, দুধের চর্বি ও পনিরের দাম কমেছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ননিছাড়া গুঁড়া দুধ। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোটিনের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এ তারতম্য দেখা যায়। সাধারণত ফ্যাট বা চর্বির উপস্থিতি বেশি থাকায় বাজারে ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধের দামই বেশি থাকে।
নিলামে হোল মিল্ক পাউডার (ফুল ক্রিম) বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পণ্যটির দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন গড়ে ৩ হাজার ৬০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। পাশাপাশি বাটার মিল্ক পাউডারের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৪ হাজার ১২৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
সর্বশেষ নিলামে জিডিটির সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়ে ১ হাজার ১৭১ থেকে ১ হাজার ১৭৭-এর মধ্যে ছিল।
কমেছে মাখন ও পনিরের দাম
গুঁড়া দুধের বিপরীতে বেশির ভাগ দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে। মাখনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি টন ৪ হাজার ৭৪০ ডলারে নেমেছে। টানা আটটি নিলামে পণ্যটির দাম কমেছে।
অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৫ হাজার ৬৮৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চেডার পনিরের দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯২৫ ডলার হয়েছে। আগের নিলামে পণ্যটির দাম ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল। মোজারেলা পনিরের দামও ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৮৩৩ ডলারে নেমেছে। ল্যাকটোজের দামও কমেছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে বাটারমিল্ক পাউডারের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১২৩ ডলারে উঠেছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের এ দামের ওঠানামা দুধ উৎপাদক ও রফতানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফারমার্স উইকলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আট মাসে জিডিটির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। এতে নিউজিল্যান্ডে প্রতি কেজি মিল্ক সলিডসের দাম ৯ দশমিক ৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দেশটির মুদ্রার দুর্বল অবস্থানও এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে।
আগামীকাল জিডিটির পরবর্তী নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখানে স্কিমড মিল্ক পাউডারের দাম বাড়ার ধারা বজায় থাকে কিনা, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।