দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে ভারত থেকে গম আমদানি। কিছুদিন আগেও বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন পাঁচ-সাত ট্রাক গম আমদানি হলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৪০-৫০ ট্রাকে। পণ্যটি দ্রুত ছাড়করণে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছে হিলি কাস্টমস।
হিলি স্থলবন্দরে গম কিনতে আসা ইয়াসিন আলী বলেন, ‘আগে ভারত থেকে গম আমদানি বন্ধ ছিল। ফলে ইউক্রেন, রাশিয়াসহ অন্য যেসব দেশ থেকে আমদানি হতো তা জাহাজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসত। বর্তমানে ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রচুর গম আমদানি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যেসব ফ্লাওয়ার মিল রয়েছে, সেখানে গমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমদানিকারকরা গম আমদানি বাড়িয়েছেন। এখান থেকে গম কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মিলগুলোয় চাহিদামতো সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন দুই-এক গাড়ি করে গম বিভিন্ন মোকামে চাহিদা অনুযায়ী পাঠানো হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের গম আমদানিকারকের প্রতিনিধি সারোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভারত থেকে যখন দেশে গম আমদানি বন্ধ ছিল, তখন ইউক্রেন, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা থেকে গম আসত। আমাদের দেশে যে গম উৎপাদন তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলগুলোর চাহিদা মেটানো সম্ভব না। যার কারণে ভারত থেকে গম আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। এতদিন ভারত গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল, তাই অন্য দেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। এখন দেশটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তাই অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারত থেকে গম আমদানি শুরু হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় ভারত থেকে গম আমদানির পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ ট্রাক গম আমদানি হচ্ছে। ভারতের উত্তর প্রদেশ, বিহার থেকে গমগুলো আমদানি হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জেলা থেকেও কিছু আমদানি হচ্ছে। এফসিআই জাতের গম বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪১-৪২ টাকায়। স্থানীয় গম বিক্রি হচ্ছে ৩৯-৪০ টাকায়। স্থানীয় বাজারে ভারত থেকে আমদানির আগে পণ্যটির দাম কিছুটা বাড়তি ছিল। আমদানি বাড়ায় দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। আমদানীকৃত গম দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিল যেমন বগুড়া, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।’
হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে কয়েক দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কিছুটা কম ছিল। বর্তমানে বাণিজ্য অনেকটা বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অনেকটাই বেড়েছে। এতে রাজস্ব আহরণ যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবসা বাড়ায় ব্যবসায়ীদের আয় বেড়েছে। আবার কাজ বাড়ায় শ্রমিকদেরও আয় বেড়েছে।’
হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা দয়াল মোল্লা বলেন, ‘বর্তমানে হিলি স্থলবন্দরে যে পণ্য আমদানি হচ্ছে তার বেশির ভাগই গম। বাংলাদেশের বাজারে গমের চাহিদা আছে, সেজন্য ভারত থেকে আমদানিকারকরা গম আমদানি করছেন। আমদানীকৃত গম দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ছাড়করণ দিচ্ছে।’