বছরের শুরুতেই দেশটিতে এক লাখের বেশি মানুষ পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান হারিয়েছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ শ্রম প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতে কর্মসংস্থান কমার হার করোনা মহামারীর পর সবচেয়ে বেশি। খবর বিবিসি।
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ কাজ হারিয়েছে। এ পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে কানাডার অর্থনীতিতে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে কানাডায় বেকারত্বের হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ধনী দেশগুলোর জোট জি৭-এর মধ্যে ফ্রান্সের পরেই কানাডায় বেকারত্বের হার এখন সবচেয়ে বেশি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বর্তমানে নরওয়ে সফরে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করছে।
তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের গড় মজুরি বৃদ্ধির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, তিনি যখন ২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন, তখন বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। সে তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভালো।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এ পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ‘ভয়াবহ সংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা পিয়েরে পইলিভ্রে প্রধানমন্ত্রী কার্নির নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, জি৭ জোটের অন্য দেশগুলোও মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে, কিন্তু অন্য কারো অর্থনীতি কানাডার মতো সংকুচিত হচ্ছে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কানাডার স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও অটোমোবাইল খাতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। এতে কানাডার হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি ‘ইউএসএমসিএ’-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সিআইবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথরিন জাজ বলেন, ‘বাণিজ্য নিয়ে এ অনিশ্চয়তাই শ্রমবাজারের অবস্থাকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।’ উল্লেখ্য, কানাডার মোট রফতানি পণ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে মার্কিন বাণিজ্যনীতির যেকোনো পরিবর্তন কানাডার অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।