আমদানি ও পরিবহন সেবা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সমন্বিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক কার্ডের ব্যবহার, বিদেশী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ও রয়্যালটিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল জারীকৃত এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বার্ষিক ভ্রমণ কোটা ১৮ হাজার ডলারই নির্ধারিত থাকছে। তবে যেকোনো যাতায়াতে একজন আন্তর্জাতিক যাত্রী নগদ সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাংলাদেশী টাকা সঙ্গে রাখতে পারবেন। এছাড়া বৈধ চাকরি, অভিবাসন বা বিদেশে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে গমনকারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক অব্যবহৃত ট্রাভেল কোটার পুরো অর্থ একবারে ছাড় করতে পারবে ব্যাংক।
সাধারণ চিকিৎসার প্রয়োজনে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো সরাসরি ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ছাড় করতে পারবে। এর বেশি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগবে। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ সীমা শিথিল থাকবে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে।
বিদেশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ভাষা শিক্ষা ও ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে টিউশন ফি ও শিক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য ফি পরিশোধ নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এটি ট্রাভেল কোটার বাইরে স্বতন্ত্র কোটা হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও অ্যাপস বা গেম ডেভেলপারদের অনলাইন ফি, ডোমেইন, হোস্টিং ও লাইসেন্সিং ফি পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার পর্যন্ত ভার্চুয়াল কার্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশী নাগরিকরা তাদের অর্জিত নিট আয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিজ দেশে পাঠাতে পারবেন। বাকি ২০ শতাংশ অর্থ পাঠানোর জন্য অর্থবছর শেষে কর মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া বিদেশে অবসর নিয়ে চলে যাওয়া বিদেশী নাগরিকরা তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও জমানো টাকা ব্যাংক যাচাই সাপেক্ষে স্বদেশে নিয়ে যেতে পারবেন।
স্থানীয় উৎপাদক, রফতানিকারক ও আমদানিকারকরা দিনে ৪০০ ডলার হারে (প্রতি ট্রিপে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার ও বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার) ব্যবসায়িক ট্রাভেল কোটা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (সাবেক বিডা) ও হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রকল্পের যন্ত্রপাতির ৬ শতাংশ এবং চলমান প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী বছরের বিক্রয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি ও টেকনিক্যাল ফি ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে পারবে।
বিদেশী ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্স ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই তাদের শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা বা ডিভিডেন্ড অডিট রিপোর্ট এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেট জমা দিয়ে নিজ দেশে পাঠাতে পারবে।
অন্যদিকে যেকোনো অনিয়ম বা জালিয়াতির মাধ্যমে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে প্রেরণের ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত সব নথিপত্র ও টিএম ফরমের রেকর্ড ন্যূনতম পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।