২০২২ সালে ভারতের প্রতি ১০ জন অতিধনীর মধ্যে নয়জনেরই সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে সম্পদ বৃদ্ধির এ হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান নাইট ফ্রাঙ্কের এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
সোমবার ‘ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৩ অ্যাটিটিউড সার্ভে: ইন্ডিয়া ফাইন্ডিংস’
শিরোনামের এক রিপোর্টে বলা হয়, অতিধনী ভারতীয়দের সম্পদের পরিবর্তন হয়েছে ১০ শতাংশের ওপরে। দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট অব্যাহত থাকায় বিশ্বব্যাপী বেশ বড় বড় অর্থনীতিতে ধস দেখা গেছে। কিন্তু ভারতের স্থিতিস্থাপক অবস্থানের কারণে দেশটি বিশ্বব্যাপী সংকটের মধ্যেও নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে।
সেখানে আরো বলা হয়েছে, ভারতে এসব সম্পদশালীর হাতেই রয়েছে ৫ দশমিক ১টি বাড়ি, যা বৈশ্বিক গড় ৪ দশমিক ১ থেকে বেশি। এসব সম্পদশালীর মোট সম্পদের ৩৭ শতাংশ বসবাসের ও বিনিয়োগের বাড়ি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেটাও বৈশ্বিক গড় ৩২ শতাংশের থেকে বেশি। এসব সম্পদশালীর মোট সম্পদের বিনিয়োগযোগ্য ৮৪ শতাংশ বিভিন্ন শেয়ার, রিয়েল এস্টেট ও বন্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসবের মধ্যে শেয়ারবাজারটি মূলত শীর্ষ ক্ষেত্রে হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, এখানেই অতিধনীদের মূল সম্পদের ৩৪০ শতাংশ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
নাইট ফ্রাঙ্কের গবেষক দলের বৈশ্বিক প্রধান লিয়াম বেইলি জানান, আগামী বছর বিনিয়োগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসবে। সেই সঙ্গে রিয়েল এস্টেটের ওপর সবার নজরও পড়বে। বিশ্বের ৬৯ শতাংশ অতিধনী বিশ্বাস করেন ২০২৩ সালে তাদের সম্পদে প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।
তিনি বলেন, সম্পদের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ, বেশি সুদহারের কারণে ব্যক্তিগত সম্পদের একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালে ভারতের শতভাগ এবং সারা বিশ্বের ৬৯ শতাংশ অতিধনী বিশ্বাস করেন, তাদের সম্পদ বাড়বে। ভারতীয়দের মধ্যে ৪৭ শতাংশ মনে করেন, সম্পদ বাড়তে পারে ১০ শতাংশের বেশি আর ৫৩ শতাংশের ধারণা, সম্পদ বাড়তে পারে কম করে হলেও ১০ শতাংশ। তবে আশাবাদী ভারতীয়দের সংখ্যা বিশ্বব্যাপী আশাবাদীদের তুলনায় কম। এমনটাই বলেন নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিশির বাইজাল।