কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় চিপের চাহিদাও এখন ঊর্ধ্বমুখী। এর সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে মেমোরি চিপ নির্মাতারা। এআই অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়ায় বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধানও তৈরি হয়েছে। এতে বেড়েছে চিপের দাম, যার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের ব্যবসায়। খবর রয়টার্স।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্যামসাংয়ের পরিচালন মুনাফা পৌঁছতে পারে ১০৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওনে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত বিনিময় হারে এটি প্রায় ৮০ দশমিক ১৭ বা ৮ হাজার ১৭ কোটি ডলার। জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের এ প্রাক্কলন দিয়েছে স্যামসাং। প্রত্যাশা পূরণ হলে প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে একক প্রান্তিকে মুনাফা ১০০ ট্রিলিন ওন ছাড়ানোর ঘটনা হবে এটিই প্রথম।
স্যামসাংয়ের পূর্বাভাস বলছে, প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় নয় গুণ বাড়তে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসও ছাড়িয়ে গেছে এ হিসাব। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ বা এলএসইজি স্মার্টএস্টিমেটের পূর্বাভাস ছিল ১০৬ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ওন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ নিয়ে টানা চতুর্থ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিচালন মুনাফা করতে যাচ্ছে স্যামসাং। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে মেমোরি চিপের ব্যবসা।
তবে রেকর্ড মুনাফার পূর্বাভাস এলেও স্যামসাংয়ের শেয়ারে বড় কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। গতকাল দিনের শুরুতে কোম্পানিটির শেয়ারদর দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। একই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক কসপি কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। গত জুনে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে। কারণ এআই ব্যবসার বর্তমান উত্থানের স্থায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বাজারের নজর এখন মুনাফার দ্রুত প্রবৃদ্ধি কতটা টেকসই হবে, সেদিকে।
এক বছর ধরে স্যামসাংয়ের আয় দ্রুত বাড়ছে। তবে সামনে এ প্রবৃদ্ধির গতি কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।
বছরের শেষ (অক্টোবর-ডিসেম্বর) প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মুনাফা গত প্রান্তিকের তুলনায় ৮ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় মুনাফা বাড়ার হার ছিল ২০ শতাংশ। অর্থাৎ সামনে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর একটি কারণ হতে পারে মেমোরি চিপের দামের গতি কমে যাওয়া। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডফোর্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চতুর্থ প্রান্তিকে প্রচলিত ডিআরএএমের চুক্তিভিত্তিক দাম আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দাম বেড়েছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।
মেমোরি চিপের দামের পরিবর্তনের দিকে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ নজর রয়েছে। কারণ এক বছরের বেশি সময় ধরে চিপের দাম বাড়ায় স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো বড় মেমোরি চিপ নির্মাতাদের মুনাফার হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
স্যামসাং আরো জানায়, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ১৯৫ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছতে পারে, যা গত বছরের তুলায় ১২৭ শতাংশ বেশি।