চীনে ১১ বিলিয়ন ডলারের খাল, খুলছে দক্ষিণে বাণিজ্যের নতুন পথ

পিংলু খাল নামে জলপথটি চীনের পূর্ব উপকূলনির্ভর বাণিজ্যপথে পরিবর্তন আনতে পারে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংশি অঞ্চলে চালু হচ্ছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার খরচে নির্মিত নতুন একটি খাল। পিংলু খাল নামে জলপথটি চীনের পূর্ব উপকূলনির্ভর বাণিজ্যপথে পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরো বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে এ প্রকল্পের। খবর নিক্কেই এশিয়া।

চার বছর নির্মাণকাজের পর বুধবার খালটি চালু হওয়ার কথা। চীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো এতদিন মূলত দেশটির পূর্ব উপকূলের বন্দর ও বিমানবন্দরনির্ভর ছিল। ইয়াংজি ও পার্ল নদীর মোহনার বন্দরগুলো এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন খালটি চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে দক্ষিণে বন্দরনির্ভর বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াবে।

চীনা কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটিকে ‘শতাব্দীর প্রকল্প’ হিসেবে তুলে ধরছে। খালটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এটি শি নদীকে দক্ষিণে বেইবু উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। চীনের বাইরে এ উপসাগর গালফ অব টনকিন নামে পরিচিত।

পিংলু খালের মাধ্যমে শি নদী দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজগুলো পার্ল নদীর বদলে আরো দ্রুত সমুদ্রপথে যেতে পারবে। বর্তমান নদীপথের তুলনায় গুয়াংঝু, শেনঝেন ও হংকংয়ের মতো বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে এ খাল প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার পথ কমাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির হিসাবে, এতে বছরে প্রায় ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউয়ান সাশ্রয় হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, খালের মাধ্যমে চীনের অভ্যন্তরীণ প্রদেশগুলোর সমুদ্রবন্দরে প্রবেশাধিকারও বাড়বে। বিশেষ করে ইউনান ও গুইঝোর মতো প্রদেশের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে পিংলু খাল দিয়ে বছরে অতিরিক্ত ২০ কোটি টন পণ্য পরিবহন হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে চীনা ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান টিএফ সিকিউরিটিজ।

বেইবু গালফ পোর্টের আওতাধীন বন্দরগুলো গত বছর ৩৫ কোটি ৮০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করেছে। নতুন খালের কারণে এ পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বর্তমানে চীনের এ অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যে কয়লা, নির্মাণসামগ্রী ও শস্যের মতো পণ্য দক্ষিণে যায়। বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের খনিজ সম্পদ উত্তর দিকে আসে।

পিংলু খালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার সুযোগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো চীনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারে পরিণত হয়ে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে পেছনে ফেলেছে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো চীনের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা।

আরও