এশিয়ার বাজার

চাহিদা বাড়ায় ভারতসহ অন্য দেশে চালের মূল্যবৃদ্ধি

এশিয়ার চালের বাজারে চলতি সপ্তাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

বিশেষ করে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে দাম বেড়ে প্রায় এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ সংকট, আসন্ন মৌসুমের ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আফ্রিকান দেশগুলোর চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে এ প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের চালের দামও বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভারতের বাজারে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৬২-৩৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের সপ্তাহেও ছিল ৩৫৮-৩৬৪ ডলার। অন্যদিকে দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টন ৩৫৯-৩৬৪ ডলার। নয়া দিল্লির আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বেনিনের মতো আফ্রিকান দেশগুলো থেকে ধারাবাহিক ক্রয়াদেশ আসায় ভারতের চালের বাজার শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ভারতের সামগ্রিক চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ৫ শতাংশ। এ সময়ে সাধারণ চালের সরবরাহ বাড়ায় বাসমতী চালের রফতানি ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে প্রধান উপসাগরীয় বাজারগুলোয় বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাসমতী চালের চালান কিছুটা কমে গেছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভিয়েতনামেও চালের দাম টানা তিন সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৪৩৫-৪৫৫ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্বজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ এবং এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষক ও রফতানিকারকদের সুবিধার্থে সুগন্ধি চাল ও ধান বিক্রির সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ফুড অ্যাসোসিয়েশন।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতি টন ৪৫০-৪৫৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের চাল আমদানির পরিমাণ বাড়ায় থাই চালের এ দরবৃদ্ধি হয়েছে। আবহাওয়ার কারণে এবার দেশটিতে ধান উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন কমতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা। তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালে মোট ৭০ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে থাইল্যান্ড।

আরও