চার বছরে প্রথমবারের মতো কমতে পারে বৈশ্বিক প্রধান খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন। আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস এবং গড় ফলন কম হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিল (আইজিসি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, উৎপাদন কমলেও বিশ্বজুড়ে গমের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে বিশ্ব বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী গমের উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে ৮২ কোটি টনে নামতে পারে। একই সঙ্গে ভুট্টার উৎপাদন ২ শতাংশ কমে হতে পারে ১৩০ কোটি টন।
উৎপাদন কমলেও গম ও ভুট্টার ব্যবহার বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারে শস্যের সমাপনী মজুদ প্রায় ৪ শতাংশ কমে ৬১ কোটি ৫০ লাখ টনে দাঁড়াবে। তবে উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে আমদানি হ্রাস পাওয়ায় সামগ্রিক শস্য বাণিজ্য ২ শতাংশ কমতে পারে।
খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমলেও বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের ফলন ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টনের রেকর্ড ছুঁতে পারে। চালের উৎপাদন আগের প্রাক্কলনের চেয়ে কিছুটা কমলেও তা গত বছরের ৫৪ কোটি ৫০ লাখ টনের রেকর্ড ছোঁবে। তবে আফ্রিকার দেশগুলোর বাড়তি চাহিদার কারণে চালের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
উৎপাদন ঘাটতির এই পূর্বাভাসের কারণে বিশ্ব বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এক মাসের ব্যবধানে সামগ্রিক শস্য ও তৈলবীজের মূল্যসূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে গমের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মূল্যসূচক প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।