জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক কার্ডে দেশে এসেছে ২৩৪ কোটি টাকা, গেছে ৯৮৫ কোটি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশীয় ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে দেশের বাইরে প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকার (৮ কোটি ডলার) লেনদেন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে দেশে যে পরিমাণ অর্থ আসে, তার চেয়ে চার গুণের বেশি অর্থ চলে যাচ্ছে বিদেশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে দেশীয় ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে দেশের বাইরে প্রায় ৯৮৫ কোটি টাকার (৮ কোটি ডলার) লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে একই সময়ে বিদেশী কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে এসেছে ২৩৪ কোটি টাকা (১ কোটি ৯০ লাখ ডলার)। অর্থাৎ কার্ডভিত্তিক অর্থপ্রবাহে দেশে আসা অর্থের তুলনায় বাইরে যাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ২ গুণেরও বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিদেশ ভ্রমণ বেড়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসা বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় এবং ই-কমার্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম থেকে পণ্য ও সেবা কেনার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার বিল পরিশোধে কার্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিপরীতে বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ও পর্যটন খাতের আয় কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ায় বিদেশী কার্ডধারীদের মাধ্যমে দেশে আসা অর্থ বা ইনফ্লোর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কমই রয়েছে।

প্রতি মাসে কার্ড ব্যবহারের ধরন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ প্রকাশিত গত জুলাইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সে মাসে দেশীয় কার্ড ব্যবহার করে ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩০টি আন্তর্জাতিক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫২৬ কোটি টাকা। একই মাসে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১২৩টি লেনদেনের মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে ৪০১ কোটি টাকা। ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের বাইরে প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমেও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক লেনদেন হচ্ছে। গত জুলাইয়ে এ ধরনের কার্ড ব্যবহার করে ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২১টি লেনদেনের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে জুলাইয়ে দেশীয় কার্ড ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক লেনদেন হয়েছে ৯৮৫ কোটি টাকা।

বিপরীতে বিদেশী কার্ড ব্যবহার করে দেশে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ভেতরে যে পরিমাণ অর্থ আসছে, তার চেয়ে ৪ দশমিক ২ গুণ বেশি অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনের মাধ্যমে দেশে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করে আরো বেশি বিদেশী পর্যটক আকৃষ্ট করা গেলে ইনফ্লো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন সেবা প্রদানকারীদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সহজে কার্ডের মাধ্যমে দেশে আনার সুযোগও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক লেনদেনের দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশীয় কার্ডের সিংহভাগ লেনদেনই হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে; যা মোট খরচের ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। খরচের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য; ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এছাড়া থাইল্যান্ডে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, ভারতে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, চীনে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ায় ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।

এর বাইরে আয়ারল্যান্ডে ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, সৌদি আরবে ৫, নেদারল্যান্ডসে ৪ দশমিক ৩৫, কানাডায় ৩ দশমিক ৬৪ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। বাকি ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে অন্যান্য দেশে।

দেশে কয়েক বছর ধরেই কার্ডের প্রসার বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে কার্ড ইস্যুর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯৭ শতাংশ। একই সময়ে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০৮ শতাংশ। ২০২১ সালের আগস্টে দেশে ইস্যুকৃত ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কর্ডের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯টি। ২০২৬ সালের জুনে এসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৪ লাখ ১৪ হাজার ৪৯৭-এ। অনুরূপভাবে ২০২১ সালের আগস্টে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ২২ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা, সে লেনদেন এখন দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকায়।

আরও