বিজিএমইএর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়নের আহ্বান

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে গতকাল উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএমইএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক, জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শ্রমসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে এলএনজি অবকাঠামো খাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সমাধানে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।’

এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিজিএমইএ ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের এ খাতে এগিয়ে আসতে আগ্রহী হবে।’

বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, এগ্রি অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, কমার্শিয়াল অ্যাটাশে পল ফ্রস্ট, পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক অফিসার শ্রীনি সীতারাম এবং শ্রমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সাইফুজ্জামান মেহরাব।

বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে আলোচনায় আরো অংশ নেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান; সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম; সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান; সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী; পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, সুমাইয়া ইসলাম, শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, কাজী মিজানুর রহমান ও জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কামার আলম এবং সাবেক পরিচালক আ ন ম সাইফ উদ্দিন।

বৈঠকে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে কীভাবে শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চায় বিজিএমইএ।’

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এ বিশেষ সুযোগটি পেয়েছে।’

বৈঠকে বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন ট্যারিফ বা শুল্ক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ব্যবসায়িক বিভ্রান্তির বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন।

এ বিষয়ে ক্রিস্টেনসেন ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের প্রেক্ষাপটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ রাষ্ট্রদূত আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে খুব দ্রুতই এ জটিলতার সুরাহা হবে এবং শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

বৈঠকে শ্রম আইন ও নতুন অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কে শ্রম খাতের সংস্কার একটি দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’

বিজিএমইএ সভাপতি জানান, ১৪৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশ সম্পর্কে আলোচনা চলছে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে কিছু বিষয়ে আরো স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন। এছাড়া পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেয়ার বিষয়েও বিজিএমইএর পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়।

আরও