হটপট, বাবল টি ও স্পোর্টসওয়্যার

চীনের ৩ রফতানি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে

সিঙ্গাপুরের যেকোনো শপিং মলে ঢুকলেই এখন চোখে পড়বে উজ্জ্বল রঙের ব্র্যান্ডিং আর লম্বা লাইন।

চা, খেলনা কিংবা খেলাধুলার সামগ্রীসহ সবখানেই এখন চীনা ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য। সস্তা পণ্যের তকমা ঝেড়ে এখন বিশ্বমানের নামিদামি ব্র্যান্ড তৈরিতে মন দিয়েছে চীন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি ছিল বিশ্বের ‘কারখানা’। পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সস্তা পণ্য তৈরির জন্য বেশ পরিচিত চীন। কিন্তু সময় বদলেছে। সরবরাহকারী থেকে এখন নিজেরাই বড় ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে। মিনিসো এর একটি বড় উদাহরণ। কোম্পানিটি ডিজনি ও মার্ভেলের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে এখন বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, গ্রাহকরা এখন পণ্যটি কোথা থেকে আসছে তার চেয়ে কেনাকাটার অভিজ্ঞতা ও পণ্যের মানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোয় যাওয়ার আগে চীনা কোম্পানিগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এখানকার ৬৫ কোটির বেশি তরুণ ও সচ্ছল গ্রাহক চীনা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। হায়দিলাও ২০১২ সালে সিঙ্গাপুরে প্রথম শাখা খোলার পর এটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম হটপট চেইন। বর্তমানে ১৪টি দেশে ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে তাদের। অন্যদিকে আইসক্রিম ও বাবলটির ব্র্যান্ড মিশুর এখন ম্যাকডোনাল্ডস বা স্টারবাকসের চেয়েও বেশি দোকান রয়েছে। এছাড়া পপ মার্টের তৈরি ‘লাবুবু’ পুতুল এখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির বিক্রি সম্প্রতি ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য এখন হ্যাসব্রো ও ম্যাটেলের মতো বড় খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি। শুধু খাবার বা খেলনা নয়, খেলাধুলা ও প্রযুক্তিতেও এগিয়ে আছে চীন। আন্তা বর্তমানে নাইকি ও অ্যাডিডাসের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড। কোম্পানিটি সলোমন ও উইলসনের মতো নামি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো কিনে নিয়ে নিজেদের ব্যবসা বিশ্বজুড়ে এগিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির বাজারে বিওয়াইডি এখন টেসলাকেও ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিটির দাবি, শুধু গাড়ি নয়, বরং বিওয়াডি এমন এক চার্জিং ব্যবস্থা তৈরি করছে, যা কয়েক মিনিটেই শত শত কিলোমিটার চলার শক্তি জোগাবে। চীনা কোম্পানিগুলোর এ উন্নতির পেছনে সরকারের ভর্তুকি বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টিকে ‘অসম প্রতিযোগিতা’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে বেইজিং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এটি চীনের উদ্ভাবন ও শিল্প সক্ষমতার প্রমাণ। প্রতিযোগিতা বাড়ায় চীনা ব্র্যান্ডগুলো এখন স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী নিজেদের বদলে নিচ্ছে। যেমন ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তারা ‘হালাল’ সনদ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন এখন আর কেবল অনুকরণের দেশ নয়, তারা এখন বিশ্বমানের নতুন প্রত্যাশা পূরণ করছে। খবর ও ছবি বিবিসি

আরও