যুক্তরাজ্যের পণ্য-সেবা ক্রয়ে ২০০ কোটি পাউন্ড অর্থায়নের আশ্বাস ইউকেইএফের

সাধারণ গ্যারান্টি, ঋণ ও বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক পণ্য দিয়ে থাকে ইউকেইএফ। এসব সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ত প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়।

যুক্তরাজ্যের পণ্য-সেবা ক্রয়ে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের ২০০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা) পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির রফতানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ)। ঢাকা সফররত সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ব্রিটিশ হাইকমিশন।

ইউকেইএফ বলছে, বাংলাদেশের জন্য ১০০ থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। এ সুবিধার আওতায় যোগ্য বাংলাদেশী ক্রেতারা পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবেন।

সাধারণ গ্যারান্টি, ঋণ ও বীমাসহ বিভিন্ন আর্থিক পণ্য দিয়ে থাকে ইউকেইএফ। এসব সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীদের সম্পৃক্ত প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা হয়। ৬০টিরও বেশি স্থানীয় মুদ্রায় এ সহায়তা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বায়ার ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি, স্ট্যান্ডার্ড বায়ার লোন গ্যারান্টি, ডাইরেক্ট লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ও আর্লি প্রজেক্ট সার্ভিসেস গ্যারান্টি রয়েছে।

জানা যায়, ইউকেইএফের প্রতিনিধি দলটি তিনদিনের সফরে বুধবার বাংলাদেশে এসেছে। সফরকালে সরকার, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারা। বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানির প্রযুক্তি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কীভাবে যুক্ত করা যায় এবং এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হচ্ছে।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ইউকেইএফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্য কাউন্সেলর মার্ক বিরেল; ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি হেড সন্দীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান রোহিণী আগরওয়াল।

সফরের অংশ হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, এইচএসবিসি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করবে প্রতিনিধি দলটি। ইউকেইএফের অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন চাহিদা পূরণ, যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবার রফতানি বাড়ানো এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে এসব আলোচনায় গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ইউকেইএফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বাণিজ্য কাউন্সেলর মার্ক বিরেল বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি মতামত নেয়া এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন কোথায় কাজে লাগানো যেতে পারে, তা খুঁজে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

আরও