বিশ্ববাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম অয়েলের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ ঊর্ধ্বমুখিতায় দেশের বাজারে প্রায় এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে লিটারে প্রায় ১৮ টাকা। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশের বৃহৎ বাজার ও মিলগুলোয় নজরদারি না থাকায় আমদানিকারক ও ট্রেডিং ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দামে পণ্য বেচাকেনা করছেন।
দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। বৃহস্পতিবার এ বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ট্রেডিং ও ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেল লেনদেনে বেশি ঝুঁকছে। গত ৫-১০ আগস্ট পর্যন্ত মিলগেট থেকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েলের দাম ছিল মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) ৪ হাজার ৮০০ টাকা। একই পাম অয়েল বৃহস্পতিবার বেচাকেনা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫০ থেকে ৫ হাজার ৪৮০ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় এক মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে মণপ্রতি ৬৫০-৬৮০ টাকা। এ হিসাবে লিটারপ্রতি বেড়েছে প্রায় ১৮ টাকা। এদিন সুপার পাম অয়েল বেচাকেনা হয়েছে ৫ হাজার ৫২০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের অন্যতম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপের পরিচালক তারিক আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে কয়েক মাসের ব্যবধানে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। তাছাড়া শিপিং চার্জ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।’
পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করেনি সরকার কিংবা আমদানিকারক কোম্পানিগুলো। এ কারণে পাম অয়েলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। মিল মালিকরা আগের মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ আদেশ বা এসও (ডিও হিসেবে প্রচলিত) বিক্রি না করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম দিয়ে পাম অয়েল ও সুপার পাম অয়েল ক্রয়ে ঝুঁকছে। অন্যদিকে দেশের মিলগুলো থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় পাম অয়েলের বাজার বাড়ছে।
তবে নাম প্রকাশ না করে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ভোজ্যতেল আমদানি ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যাংকিং চ্যানেলে সংকটের কারণে আমদানির পরিমাণ কমে গেছে। বাজারে বিদ্যমান এসওগুলো মিলগেটে এলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ দেয়া যাচ্ছে না। যার কারণে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মজুদ ফুরিয়ে গেলে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।’
এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কয়েক মাস ধরে দেশে সয়াবিনের দাম স্থিতিশীল। সয়াবিনের সঙ্গে পাম অয়েলের দামের পার্থক্য সাধারণত এক থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে থাকে। সম্প্রতি পাম অয়েলের দাম বেড়ে সয়াবিনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বর্তমানে মণপ্রতি সয়াবিন বেচাকেনা হচ্ছে ৫ হাজার ৯০০ থেকে ৫ হাজার ৯২০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৬ হাজার টাকা।