ফেনীতে গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ বেড়েছে। তবে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ অর্জন করতে পারেনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
জেলা কৃষি ঋণ বিতরণ কমিটির তথ্যানুযায়ী, জেলার ৪৪টি ব্যাংকিং শাখা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গত অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৭১৫ কৃষক ঋণ নিয়েছেন। বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ২৭১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে (২০২১-২২) জেলায় ২৪৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে গত অর্থবছরে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ঋণ বেশি বিতরণ হয়েছে।
এদিকে মেঘনা ব্যাংকের ফেনী শাখায় গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণের পরিমাণ শূন্য থেকে উঠতে পারেনি। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংকের ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ৭ শতাংশেই থেমে গেছে।
কৃষি ঋণ বিতরণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকার ধারাবাহিকতার শীর্ষে রয়েছে কৃষি ব্যাংক। তার পরই স্থান করে নিয়েছে বেসরকারি পর্যায়ের ইসলামী ব্যাংক। তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে ফেনীতে কৃষি ব্যাংক ১৬ হাজার ৮১৮ ব্যক্তিকে ৮৪ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি ঋণ দিয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৪৭০ জনকে দিয়েছে ৫৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) ৩ হাজার ৮২৪ জনকে ১৯ কোটি ১২ লাখ, সোনালী ব্যাংক ৩ হাজার ৪৮ জনকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ ও জনতা ব্যাংক ২ হাজার ৪৬২ ব্যক্তিকে ১২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কৃষি ঋণ দিয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিখাতের মধ্যে ফসল, কৃষি/সেচ যন্ত্রপাতি, দুগ্ধ উৎপাদন, ডেইরি, পোলট্রি/মৎস্য, কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়া ও বাজারজাত, দারিদ্র্য বিমোচন, মসলা উৎপাদন খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়। বিগত অর্থবছরে জেলায় ফসল উৎপাদনের জন্য ৯২ কোটি ৯ লাখ, কৃষি/সেচ যন্ত্রপাতিতে ২ কোটি ৯ লাখ, ডেইরিতে ৪০ কোটি ৩০ লাখ, পোলট্রিতে ৪১ কোটি ২৫ লাখ, মৎস্যে ৩৮ কোটি ৫১ লাখ, কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়া ও বাজারজাতে ২ কোটি ৪৮ লাখ, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে ৪২ কোটি ৭ লাখ, মসলা উৎপাদন খাতে ৪৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, জেলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ৩৪১ কোটি ৪ লাখ টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও অর্জিত হয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত সাতটি ব্যাংক ১৬২ কোটি ২৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বিতরণ করেছে। বেসরকারি ব্যাংক ৩৭টির মধ্যে ৩৬টি ব্যাংক ১০৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বেশি বিতরণ করে। এর মধ্যে জেলায় ঋণ বিতরণ না করা ব্যাংকের তালিকায় শুধু মেঘনা ব্যাংকের নাম রয়েছে।
অপর বেসরকারি ব্যাংক খাতের লক্ষ্যমাত্রার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে প্রাইম ব্যাংক। ১০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি পুরো অর্থ বছরজুড়ে মাত্র ৭০ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।