পানি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার কোটি পাউন্ড ব্যয় করবে যুক্তরাজ্য

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জরাজীর্ণ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা সংস্কারে ১০ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জরাজীর্ণ পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা সংস্কারে ১০ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ের একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট। এ খাতের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। মূলত গত কয়েক দশকের বিনিয়োগ ঘাটতি মেটাতে ও পরিবেশ দূষণ রোধে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পানি কোম্পানিগুলো। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

২০২৫-৩০ সালের মধ্যে পাইপলাইন ও পানি পরিশোধন ব্যবস্থা উন্নত করতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এর আগে গত পাঁচ বছরে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১০০ কোটি পাউন্ড। সে সময় খরচ মেটাতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রাহকদের পানির বিল গড়ে ৩৬ শতাংশ বাড়ানোর অনুমতি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। নদী ও সাগরে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়া নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে যখন বিক্ষোভ চলছিল, তখন বিল বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

লেবার সরকার এরই মধ্যে এ খাতের কঠোর নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছে। তারা বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট বিলুপ্ত করে প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা তদারকি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করেছে। তবে এ পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে সময় লাগবে।

ওয়াটার ইউকের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ স্টুয়ার্ট কলভিল বলেন, ‘আমরা একটি পুরনো ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছি। যদি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিল বাড়ানো হতো, তবে তা বর্তমানের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হতো। ২০১০ সালের পর থেকে এ খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি।’

বড় আকারের বরাদ্দ পেলেও পানি কোম্পানিগুলো ঠিকমতো ব্যয় করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ সংশয় প্রকাশ করেছেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডিটার হেলম বলেন, ‘নির্মাণ খাতে কর্মী ও সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে। এ বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করার মতো সক্ষমতা আমাদের খুব কম। এছাড়া অনেক কোম্পানি বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত।’

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা রিভার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী জেমস ওয়ালেস এ পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেন, ‘পানি কোম্পানিগুলো এর আগেও প্রয়োজনীয় অর্থ পেয়েছে। কিন্তু তারা সে অর্থ সংস্কারকাজে খরচ না করে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বণ্টন করেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত বড় প্রকল্পের কাজ শেষ করা কোম্পানিগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আরও