ইজিজেট কিনতে অ্যাপোলোর ৫৭০ কোটি পাউন্ডের প্রস্তাব

যুক্তরাজ্যের স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা ইজিজেট কিনে নিতে ৫৭০ কোটি পাউন্ডের (প্রায় ৭৭০ কোটি ডলার) একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট।

এ নতুন প্রস্তাব আসার পর বিমান সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। মাত্র কয়েক দিন আগেই ক্যাসললেক নামের অন্য একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কম মূল্যের একটি প্রস্তাবে নীতিগতভাবে রাজি হয়েছিল ইজিজেট। তবে অ্যাপোলোর প্রস্তাব আসার পর আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ইউরো নিউজ ও রয়টার্স।

গতকাল ইজিজেট জানিয়েছে, তারা অ্যাপোলোর প্রতি শেয়ার ৭ দশমিক ১৫ পাউন্ডের নগদ প্রস্তাবটিতে সম্মত হয়েছে। ক্যাসললেকের দেয়া আগের প্রস্তাবটি ছিল শেয়ারপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ পাউন্ড। ইজিজেটের পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ক্যাসললেকের চেয়ে অ্যাপোলোর নতুন এ দর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বেশি লাভজনক। ফলে তারা ক্যাসললেকের প্রস্তাবটি বিবেচনা করতে আগ্রহী নয়।

দুই মার্কিন প্রতিষ্ঠানের এ প্রতিযোগিতার খবরে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গতকাল সকালে লন্ডনের পুঁজিবাজারে ইজিজেটের শেয়ারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ৭৫ পাউন্ডে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের শুরুর দিকের পর সর্বোচ্চ। তবে শেয়ারের এ বর্তমান বাজারদর এখনো অ্যাপোলোর প্রস্তাবিত দামের চেয়ে কিছুটা কম। ধারণা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত আইনি ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমোদনের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছু সংশয় থাকায় এ ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নানা সংকটে ইজিজেটের ব্যবসায়িক মূল্য অনেক কমে গিয়েছিল। গত ২৮ মে ক্যাসললেকের আগ্রহের খবর প্রকাশ্যে আসার আগে ইজিজেটের শেয়ারের যে দাম ছিল, অ্যাপোলোর প্রস্তাবটি তার চেয়ে ৮১ শতাংশ বেশি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ায় ইজিজেট তাদের বাজারমূল্যের এক-তৃতীয়াংশ হারায়।

গত মে মাসে ইজিজেটের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের লোকসানের চিত্র উঠে আসে। মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ছয় মাসে কর-পরবর্তী লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড, যা আগের বছরের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। অথচ এ সময়ে কোম্পানিটির আয় ১২ শতাংশ বেড়ে ৩৯৫ কোটি পাউন্ড হয়েছিল।

তবে নতুন ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মালিকানাসংক্রান্ত আইন। এ নিয়ম অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলোর ভেতরে চলাচলকারী বিমান সংস্থাগুলোর সিংহভাগ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয় নাগরিকদের হাতে থাকতে হবে। ক্যাসললেক এ নিয়ম মানতে দুজন আইরিশ এভিয়েশন কর্মকর্তার সঙ্গে অংশীদারত্বের পরিকল্পনা করেছিল। অন্যদিকে অ্যাপোলো জানিয়েছে, তারা ইইউর বিদেশী ভর্তুকিসংক্রান্ত নিয়ম মেনে সব ধরনের আইনি জটিলতা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।

যুক্তরাজ্যের অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, ক্যাসললেককে ৩ আগস্ট ও অ্যাপোলোকে ৭ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাব জমা দিতে হবে। চুক্তিটি সফল হলে লন্ডনের শেয়ারবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হবে ইজিজেট।

আরও