বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ প্রেস ব্রিফিং

ইইউ চিহ্নিত ৪৮ বাণিজ্য বাধার সমাধান, খুলছে এফটিএর দ্বার

বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চিহ্নিত ৬১টি শুল্ক-বহির্ভূত বাণিজ্য বাধার ৪৮টির সমাধান করেছে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে বৃহত্তম রফতানি বাজারটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার; অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চে ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনায় বিদ্যমান কিছু নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন। পরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে এসব সমস্যার বড় অংশের সমাধান করা হয়।’

সমাধান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন। এছাড়া বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। রফতানি পণ্যের ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূর করে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণও করা হয়েছে।

বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার উদ্যোগ সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের সুপারিশ ইতিবাচকভাবে এসেছে। সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’ এক্ষেত্রে ইইউর শক্তিশালী সমর্থন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এফটিএ ও আইপিএর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।’ সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এ সময় বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে উড়োজাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ‘এয়ারবাস’ ক্রয়-সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিষয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘এয়ারবাসের প্রস্তাবটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক; বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’

বিফ্রিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আমদানি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।’ জ্বালানি ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করেই সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে বলেও জানান তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইইউর সঙ্গে এফটিএর আলোচনা শুরু হলে বাংলাদেশের রফতানি খাত- বিশেষ করে তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ওষুধ ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও