চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট নানা প্রতিকূলতায় নতুন করে চাপে পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি। বিপুল সামরিক খরচের কারণে দেশটির বাজেট ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কমে এসেছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিও। খবর এপি।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এ মুহূর্তে রাশিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট বা অর্থনৈতিক ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া থাকায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি আয় এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ আয়ের ওপর ভর করেই ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের খরচ মেটাতে পারছে ক্রেমলিন।
পাশাপাশি দেশটিতে বেকারত্বের হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সরকার দরিদ্র অঞ্চলগুলোয় বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এতে সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বড় আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ছবি তুলে ধরতে চেয়েছে মস্কো।
তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, সাময়িক এ স্থিতিশীলতার আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০২৩-২৪ সালে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের বেশি ছিল। কিন্তু চলতি বছর প্রবৃদ্ধি কমে দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পেট্রলের দাম বেড়েছে এবং কিছু এলাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বেড়েছে।
বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে মূল্যসংযোজন কর ও বিভিন্ন ফি বাড়িয়েছে সরকার। তবু জুলাই শেষে ঘাটতি জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। রুশ সরকারি বন্ডের সুদ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও নতুন বিনিয়োগের ঘাটতিও দীর্ঘমেয়াদে রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও সামরিক খাতে সরকারি ব্যয়ের কারণে আপাতত অর্থনীতিকে সচল রাখতে পারছে ক্রেমলিন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘মাসিক বাজেট ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই এবং দেশটির সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধের ব্যয় দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার অর্থনীতিতে আরো বড় চাপ তৈরি হতে পারে।’