মালয়েশিয়ান পাম ওয়েল কাউন্সিল (এমপিওসি) জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জলবায়ুগত অবস্থার কারণে সরবরাহ সংকট ও বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। তাই সেপ্টেম্বরে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ১ হাজার ১৩৯ ডলারের (৪ হাজার ৬০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত) ওপরে থাকতে পারে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
এমপিওসি জানায়, বছরের শেষ দিকে পাম অয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহ আরো কমে আসতে পারে। মালয়েশিয়ায় সাধারণত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে পাম অয়েল উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর তা কমতে শুরু করে। গত জুন ও জুলাইয়ে তেল নিষ্কাশনের হার ১০ বছরের গড়ের চেয়ে কম ছিল। এসব কারণে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) উৎপাদনে মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহন বিভ্রাট এবং কৃষ্ণ সাগরের বন্দর কার্যক্রম স্থগিত থাকায় সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প হিসেবে পাম অয়েলের দিকে ঝুঁকছে। গত জুলাইয়ে ভারত জুনের তুলনায় পাম অয়েল আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ালেও সূর্যমুখী তেল আমদানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ায় বায়োডিজেল উৎপাদনে পাম অয়েলের ব্যবহার বেড়েছে। দেশটি বি৪০ থেকে বি৫০ বায়োডিজেলে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে পাম তেলের চাহিদা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে এল নিনো নিয়ে উদ্বেগের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে দাম বেড়েছে ২০২৭ সালে সরবরাহ চুক্তিরও। বর্তমানে প্রতি টন পাম অয়েল দাম ৫ হাজার রিঙ্গিতের ওপরে লেনদেন হচ্ছে।
যদিও জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার পাম তেল উৎপাদন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৭ লাখ ৯০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। তবে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় টানা পঞ্চম মাসের মতো কম ছিল। জুলাইয়ে ভারত ও সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোয় বর্তমানে রফতানি ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ায় দেশটির মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার টনে।