সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নিলামে জিডিটি সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত গুঁড়া দুধের দাম বাড়ায় এবং ইউরোপে তীব্র খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে দুধের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খবর আইরিশ ফারমারস জার্নাল, দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড ও এগ্রিল্যান্ড।
সর্বশেষ নিলামের বরাত দিয়ে ইডেইরি নিউজ জানায়, জিডিটি সূচক ১ হাজার ১২১ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৩৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নিলামে মোট ২৬ হাজার ৮৮৯ টন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে। এসব পণ্যের গড় মূল্য দাঁড়ায় প্রতি টনে ৩ হাজার ৩৩৯ ইউরো।
আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে গুঁড়া দুধ। নিলামে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বাটারমিল্ক পাউডারের। পণ্যটির সূচক ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি টনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪৬ ইউরোয়। অন্যদিকে স্কিম মিল্ক পাউডারের (এসএমপি) বা ননিহীন গুঁড়া দুধের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৩০ ইউরো হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হোল মিল্ক পাউডার (ডব্লিউএমপি) বা ননিযুক্ত গুঁড়া দুধের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৩ হাজার ৫১ ইউরোয় পৌঁছেছে।
অন্য পণ্যের মধ্যে ল্যাকটোজের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫০৬ ইউরো এবং মোজারেলা চিজের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৪৪৮ ইউরোয় উঠেছে। এছাড়া অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের (এএমএফ) বা দুগ্ধজাত বিশুদ্ধ চর্বির দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৫ হাজার ৬০৬ ইউরোয় বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুগ্ধজাতীয় পণ্য আমদানি ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান এমএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিন্টু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তির পর সব ধরনের দুগ্ধজাতীয় পণ্যের বৈশ্বিক দাম ১-৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। কিন্তু সম্প্রতি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডে (জিডিটি) ফুল ক্রিম মিল্ক ও নন ফ্যাট মিল্কের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে ২১ জুলাইয়ের টেন্ডারে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ আমেরিকা অঞ্চলের সব দেশের উৎপাদকরা ১ দশমিক ৬ থেকে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তি অফার দিয়েছে। জ্বালানির (গ্যাস ও তেল) বাড়তি মূল্য ছাড়াও শিপিং চার্জ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক দুগ্ধজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে দুগ্ধজাতীয় পণ্যের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তত তিন মাসের মজুদ সংরক্ষণ করে ব্যবসা পরিচালনা করেন। শুধু একটি টেন্ডারের দরবৃদ্ধিতে আপাতত দেশীয় বাজারে প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই। তবে টানা কয়েকটি আন্তর্জাতিক ট্রেডে দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লে দেশের বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে।’ সেক্ষেত্রে জাহাজের শিপিং চার্জসহ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
ফারমারস উইকলির তথ্যমতে, নিলামে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। এবার সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে চেডার চিজের। আগের নিলামে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ কমার পর এবার আরো ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি টনের দাম ৩ হাজার ১৩৮ ইউরোয় নেমেছে। পাশাপাশি মাখনের (বাটার) দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৪১ ইউরোয়।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ার পর দাম আবার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। নতুন করে দাম কমার কারণে বাজারে আবার ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ক্রেতারা মোট ক্রয়ের ৩৬ শতাংশ তুলে নিয়েছেন, যা আগের নিলামে ছিল ২৮ শতাংশ।
বিশ্বজুড়ে দাম বাড়ার পেছনে ইউরোপের সাম্প্রতিক প্রতিকূল আবহাওয়া বড় ভূমিকা রাখছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো শীর্ষ দুধ উৎপাদনকারী দেশগুলোয় তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে খামারগুলো থেকে দুধ সংগ্রহ কমে গেছে। কিছু বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে উৎপাদন ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে, যা বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দামে আরো প্রভাব ফেলবে।