পেপার ও প্যাকেজিংকে চলতি বছরের বর্ষপণ্য ঘোষণা করে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল এ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পেপার ও প্যাকেজিংকে এবারের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
সাধারণত ১ জানুয়ারি শুরু হয় এ মেলা। তবে এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে উদ্বোধন দুইদিন পিছিয়ে যায়। এর ফলে মাসব্যাপী এ মেলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় গতকাল।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘দেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। এর মধ্যে রফতানিতে অবদান ও সম্ভাবনা বিষয় বিবেচনা করে বিভিন্ন পণ্য খাতকে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রফতানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে প্রতি বছর একটি পণ্যকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবার পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্টকে ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করছি।’
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যা পণ্যের উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলেছে। এটি বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তিচালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমলেও সে তুলনায় আমাদের রফতানি প্রবৃদ্ধি এখনো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। ধীরগতির হলেও এ প্রবৃদ্ধি এখনো ১ শতাংশে আছে। চলতি অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলেও আমরা বাণিজ্য ঘাটতি কমাব। প্রত্যাশিত মাত্রায় রফতানি যদি নাও করতে পারি, গত বছরের চেয়ে কম হারে আমদানি করলে সেটিও আমাদের ঘাটতি পূরণে ভালো সহায়তা করবে। সে উদ্দেশ্যে আমরা কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আশা করি, বছরের বাকি অংশে আমরা সে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে পারব। তাছাড়া বছরের শেষদিকে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হবে। এটি অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে। আমাদেরকে সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।’
দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন থাকলেও এর মধ্যে মাত্র ২১টি দেশে বাণিজ্যিক মিশন কাজ করছে। সম্ভাবনাময় আরো কয়েকটি দেশে বাণিজ্যিক মিশন প্রতিষ্ঠা করা হলে ব্যবসায়ীরা বাজার সংযোগে আরো বেশি সুবিধা পাবেন।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতিতে আমরা পণ্য রফতানিতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি। রফতানিযোগ্য নতুন পণ্য সন্ধানের লক্ষ্যে এক জেলা, এক পণ্য কার্যক্রম বেগবান করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জিআই পণ্যসমূহের রফতানি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদক-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীর ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, পেপার ও প্যাকেজিং পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। এক বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, ‘এ ঘোষণা দেশের পেপার প্যাকেজিং শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক। বর্ষপণ্য ঘোষণার ফলে এ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।’