ইউএসডিএর পূর্বাভাস

২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী বাড়তে পারে গমের সমাপনী মজুদ

২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (জুন-মে) বিশ্বব্যাপী গমের সমাপনী মজুদ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে (জুন-মে) বিশ্বব্যাপী গমের সমাপনী মজুদ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা ও রাশিয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে আগে দেয়া প্রাক্কলন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বিপণন বর্ষে গমের সমাপনী মজুদ বাড়লে ফিউচার মার্কেটে খাদ্যশস্যটির দাম কমে আসতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম ও রুরাল ভয়েস।

ইউএসডিএর ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটস (ডব্লিউএএসডিই) শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী গমের সমাপনী মজুদ পৌঁছতে পারে ২৭ কোটি ৮৩ লাখ টনে। এটি আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৩৪ লাখ টন বেশি।

সংস্থাটির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন পৌঁছতে পারে ১১০ কোটি ২০ লাখ টনে। এটি আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ৪৩ লাখ টন বেশি। এ সময় আর্জেন্টিনার গম উৎপাদন ৩৫ লাখ টন বেড়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। রাশিয়ায় চলতি বিপণন বর্ষে গম উৎপাদন পৌঁছতে পারে ৮ কোটি ৯৫ লাখ টনে, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২০ লাখ টন বেশি।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে বাজারে খাদ্যশস্যটির বাড়তি সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু কিছু দেশে খাদ্যশস্যটির গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে মোট উৎপাদন বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি দামে প্রভাব ফেলছে না। বরং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে গমের বাজারে নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে ২০২৬ সালের ১ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে গমের সমাপনী মজুদ পৌঁছতে পারে ৯২ কোটি ৬০ লাখ বুশেলে (প্রতি বুশেলে ৬০ পাউন্ড)। এটি ডিসেম্বরে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ২ কোটি ৫০ লাখ বুশেল বেশি এবং ২০২৫ সালের মোট উৎপাদনের তুলনায় ৭ কোটি ১০ লাখ বুশেল বা ৮ শতাংশ বেশি।

বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মূলত পশুখাদ্য খাতে ব্যবহার কমে যাওয়া এবং রফতানি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনায় যুক্তরাষ্ট্রে গমের সমাপনী মজুদ বাড়তে পারে।

স্টোনএক্সের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট মাইক ও’ডে বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বিপণন বর্ষে গমের সমাপনী মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় বাড়তে পারে। এছাড়া আগেই ধারণা করা হয়েছিল, পশুখাদ্য খাতে খাদ্যশস্যটির ব্যবহার কমবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌গত বছরের তুলনায় বিশ্বব্যাপী গম উৎপাদন বাড়তে পারে ৪ কোটি ২০ লাখ টন। আর যুক্তরাষ্ট্রে মোট উৎপাদন হতে পারে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন। তবে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত গম যুক্ত হলেও এখনো এর একাংশের মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।’

আরও