আলোচ্য হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। বিনিয়োগ আয়, সুদ আয়ের বৃদ্ধি, বহুমুখী কৌশলগত পোর্টফোলিও এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এ অর্জনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইপিডিসির পর্ষদ।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট সুদ আয় আগের তুলনায় সাড়ে ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫৬ কোটি টাকায়। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আগের বছরের তুলনায় কোম্পানির পরিচালন আয় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ কোটি ৪০ লাখ এবং বিনিয়োগ আয় ৯৩ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আইপিডিসি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, সঠিক নিয়োগ ও পারফরম্যান্স আরো উন্নত করে পরিচালন ব্যয়ের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। গত বছরের পরিচালন ব্যয় ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৩ কোটি ১০ লাখ এবং পরিচালন মুনাফা ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকায়।
২০২৫ সালের শেষে ঋণ, লিজ ও অগ্রিমের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৬২ কোটি ২০ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। আমানত আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকায়।
২০২৫ সালে রিটার্ন অন ইকুইটি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশে এবং এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায়।
আর্থিক ফলাফল প্রসঙ্গে আইপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, ‘২০২৫ সালে আমরা পরিকল্পিত বাস্তবায়ন ও কৌশলগত স্থিতিশীলতায় বাড়তি মনোযোগ দিয়েছি। চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিবেশেও আমরা বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে আয়ের উৎস বাড়িয়েছি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করে আয়ভিত্তি আরো শক্তিশালী করেছি। পোর্টফোলিওর মান, দক্ষ মূলধন ব্যবহার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমরা টেকসই মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছি এবং ব্যালান্সশিট আরো শক্তিশালী করেছি। দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডারদের রিটার্ন বাড়াতে কাজ করব।’
২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৮০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪০৯ কোটি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২৪১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪০ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০। এর ৪০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া সরকারের কাছে ২১ দশমিক ৮৮, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৯ দশমিক ১০, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।