তবে মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত যুদ্ধ এবং সমুদ্রপথে জ্বালানি তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে জোটের কয়েকটি দেশ নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করতে পারছে না।
আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বা বাজার পুনরুদ্ধার করতেই উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক প্লাস। কিন্তু পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় এ পরিকল্পনা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, জোটের প্রধান সাতটি দেশ সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান সেপ্টেম্বরের জন্য সম্মিলিতভাবে উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়াতে পারে। জুন, জুলাই ও আগস্টের জন্যও তারা একইভাবে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছিল। তবে এ সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওপেক বা রুশ জ্বালানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
একদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটির মূল্যবৃদ্ধিসংক্রান্ত বৈঠকটি আগামী ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রাথমিক শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক দিনগুলোয় সৌদি আরবের তেলবাহী ট্যাংকারে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বিকল্প রুটগুলোয়ও সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
উত্তোলন বাড়ানোর ঘোষণা থাকলেও ওপেক প্লাসের প্রকৃত জ্বালানি তেল উত্তোলন এখনো নির্ধারিত কোটার চেয়ে অনেক কম। জোটের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে তাদের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ছিল প্রতিদিন ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। অথচ অঞ্চলটিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দৈনিক উত্তোলন ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এখন পর্যায়ক্রমে তা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবেই জোটটি এ লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে। তৎকালীন সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্ত থাকলেও গত মে মাসে দেশটি ওপেক থেকে বেরিয়ে যায়। এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে বাকি সাতটি দেশ দৈনিক ৯ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানো হলে ২০২৩ সালের সে কাটছাঁটের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি উঠে যাবে।