দুই বছর ধরে আয় ও মুনাফা নিম্নমুখী

প্রতিযোগীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে হাইডেলবার্গ

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছিল ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস বাংলাদেশ পিএলসির আয় ও মুনাফা গত দুই বছর ধরেই কমছে। যদিও এ সময়ে অন্যান্য প্রতিযোগী সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর আয়ে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এতে প্রতিযোগীদের চেয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে হাইডেলবার্গ। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও আয় কমার পাশাপাশি লোকসান গুনেছে কোম্পানিটি।

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় হয়েছিল ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। ২০২৪ হিসাব বছরে আয় কমে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ও নিট মুনাফা ৪৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের আয় আরো কমে ১ হাজার ৪৫২ কোটি ও নিট মুনাফা ২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। দেশের সিমেন্টের বাজার হাইডেলবার্গের অন্যতম প্রতিযোগী কোম্পানি ক্রাউন সিমেন্ট, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের আয় এ সময়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের মোট উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন। ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৮ টন সিমেন্ট উৎপাদনের বিপরীতে বিক্রি করেছে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৩ টন। সর্বশেষ ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানিটির উৎপাদন ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬ টনে নেমে এসেছে এবং বিক্রি হয়েছে ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৯৪৩ টন সিমেন্ট।

চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-মার্চ) হাইডেলবার্গের ৬৮৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে, যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৭৬৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ১১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ১১ কোটি টাকা কর পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে। যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ২২ কোটি টাকা নিট মুনাফা ছিল।

দুই বছর ধরে আয় কমার কারণ হিসেবে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক সিমেন্টের বাজারে নিম্ন গড় দামের কারণে কোম্পানির আয় কমে গেছে। তাছাড়া নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতের শ্লথগতির কারণেও সিমেন্টের বিক্রি কমে গেছে। এ অবস্থায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মুনাফা মার্জিন ধরে রাখার চেষ্টা করছে কোম্পানিটি।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা, এর আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭৩ টাকা ৯২ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ১৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ১৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ৮৭ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের ইপিএস ৮ টাকা ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৪ টাকা ১৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ২০ পয়সায়।

হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং ‘এএ২’ এবং স্বল্পমেয়াদে রেটিং ‘এসটি-২’। কোম্পানিটির ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।

১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মুলধন ৫৬ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৬১ কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৩ হাজার ৫৮০। এর ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ৪৪, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার হাইডেলবার্গের শেয়ার সর্বশেষ ২০৮ টাকা ৬০ পয়সা লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ১৯৭-২৭২ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

আরও