দেশটির সবুজ অর্থনীতি বা ‘নিট-জিরো অর্থনীতি’ থেকে প্রতি বছর আয় হচ্ছে ১০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। একই সঙ্গে এ খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১১ লাখ মানুষের। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন সিবিআইয়ের অর্থনীতি বিভাগ ও থিংক ট্যাংক এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইসিআইইউ)।
পরিবেশের ক্ষতিসাধন না করে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করাই সবুজ অর্থনীতি। সহজভাবে বলতে গেলে, সবুজ অর্থনীতি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে ও একই সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি কমাবে এবং অভাব দূর করবে।
গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সবুজ অর্থনীতি এখন বছরে ১০৫ বিলিয়ন পাউন্ডের ‘গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড’ বা অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজন করছে। এটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌর প্যানেল স্থাপন, ঘরের তাপ নিরোধক ব্যবস্থা, বায়ু টারবাইন উৎপাদন ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের মতো খাতে প্রায় তিন লাখ আট হাজার মানুষ সরাসরি কাজ করছে। এসব খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোকে হিসাব করলে মোট কর্মসংস্থান দাঁড়ায় প্রায় ১১ লাখে। এখানে কর্মীদের আয়ও জাতীয় গড়ের তুলনায় বেশি।
সিবিআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ লুইস হেলেম বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের শিল্প ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। জ্বালানি, উৎপাদন শিল্প, সেবা খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দেশের শক্তিশালী দক্ষতা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো বড় বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।’
যুক্তরাজ্যজুড়ে প্রায় ২২ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।
তবে দেশটির রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে নিট-জিরো লক্ষ্য বাতিল করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছেন।
লুইস হেলেম এ অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, নিট-জিরো নীতি থেকে সরে আসা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে খাতটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে ১০০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থনীতিতে অবদান রাখা একটি শিল্প থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ যুক্তরাজ্যের নেই।
পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব দ্য আর্থের জলবায়ু কর্মী স্যান্ড্রা বেলও একই মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যারা জলবায়ু কর্মসূচি ভেঙে দেয়ার কথা বলছেন, তারা ব্রিটেনের মানুষের স্বার্থ দেখছেন না। বরং তারা দেশকে বৈশ্বিক সবুজ অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে চান।
গবেষণাটি আরো উল্লেখ করেছে, সবুজ অর্থনীতি যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতির তুলনায় প্রায় তিন গুণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পানি ও প্রকৃতিবিষয়ক কার্যক্রমসহ বৃহত্তর সবুজ অর্থনীতিতে সরাসরি কর্মসংস্থান রয়েছে ছয় লাখেরও বেশি মানুষের।