লেনদেনের নিম্নমুখিতা

পুঁজিবাজারে ১ শতাংশের বেশি দরপতন

দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচক ও লেনদেনের নিম্নমুখিতা দেখা গেছে।

এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ১ শতাংশের বেশি পয়েন্ট হারিয়েছে। পাশাপাশি এদিন এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেনও ২৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই ডিএসইর সূচক নিম্নমুখী ছিল। দিনশেষে ডিএসইএক্স সূচক ৬৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৮৭১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ২৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ২১৭ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৯৯ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৯৩৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৯টির, কমেছে ৩১০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সার্বিক প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেয়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পুঁজিবাজারের শুরু থেকেই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের স্পষ্টতার অভাবে সার্বিক শেয়ার বিক্রির চাপ প্রবল হয়ে ওঠে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বজায় থাকলেও সার্বিক লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে। লেনদেন হওয়া সব খাতেই নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১১ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ব্যাংক খাত ১১ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ৬ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

গতকাল সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ভ্রমণ খাতে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২ দশমিক ৮, সিরামিক খাতে ২ দশমিক ৫, প্রকৌশল খাতে ২ দশমিক ১ ও জীবন বীমা খাতে ২ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৯৭ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৫৮ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৬২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৬২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৪টির, কমেছে ১৮৬টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। গতকাল সিএসইতে প্রায় ২০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

গতকাল ডিএসইতে শেয়ারের দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকা কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে রয়েছে এমএল ডায়িং, শাশা ডেনিমস, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড, মালেক স্পিনিং মিলস, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও দেশবন্ধু পলিমার।

এদিকে গতকাল ডিএসইতে দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে- শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিস গ্লাস শীট ফ্যাক্টরি, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ, বেস্ট হোল্ডিংস, সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, জিলবাংলা সুগার মিলস, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

আরও