গবেষণা

জিডিপির অনুপাতে অনেক দেশে বাড়ছে না কার্বন নিঃসরণ

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপির সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ বাড়তে থাকে, সাধারণত এমনটা ভাবা হয়। তবে এখন ভিন্ন পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণা অনুসারে, বিশ্বের অনেক দেশে অর্থনীতি সম্প্রসারণ হলেও কার্বন নিঃসরণ সে অনুপাতে বাড়ছে না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপির সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ বাড়তে থাকে, সাধারণত এমনটা ভাবা হয়। তবে এখন ভিন্ন পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণা অনুসারে, বিশ্বের অনেক দেশে অর্থনীতি সম্প্রসারণ হলেও কার্বন নিঃসরণ সে অনুপাতে বাড়ছে না। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দশম বার্ষিকীর প্রাক্কালে প্রকাশিত এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেছে দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইসিআইইউ) এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট অর্থনীতির ৯২ শতাংশ প্রতিনিধিত্বকারী দেশগুলোয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভোগভিত্তিক কার্বন নিঃসরণের সরাসরি সম্পর্ক এখন আগের মতো নেই। অনেক দেশে জিডিপি বাড়লেও কার্বন নিঃসরণ সে অনুপাতে বাড়ছে না। এ প্রবণতাকেই গবেষকরা ডিকাপলিং বা বিচ্ছিন্নতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০১৫ সালের পর থেকে এ প্রবণতা দ্রুত জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধের বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোয় এ পরিবর্তন বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ গ্লোবাল কার্বন বাজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, উন্নত অর্থনীতিগুলোয় ডিকাপলিং প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের মোট জিডিপির ৪৬ শতাংশ এমন দেশগুলোর মধ্যে পড়ে, যারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমাতে পেরেছে। এ তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও মিসর। সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা গেছে যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে।

চীনের অবস্থানকে প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশটি এখন কয়লা ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে। ২০১৫-২৩ সালের মধ্যে চীনের ভোগভিত্তিক কার্বন নিঃসরণ বেড়েছে ২৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশটির অর্থনীতি বেড়েছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। ১৮ মাস ধরে চীনের কার্বন নিঃসরণ প্রায় স্থির রয়েছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, চীন যদি এ পর্যায়ে থেকে পরিবর্তন আনতে পারে, তাহলে তা অনেক দেশের জন্য অনুসরণযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠবে।

মোট ২১টি দেশে এক দশকে ডিকাপলিংয়ের উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইতালি, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এসব দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেই কার্বন নিঃসরণ কমাতে পেরেছে। আরো ২২টি দেশ ২০১৫ সালের আগে ও পরে ধারাবাহিকভাবে এ সাফল্য দেখিয়েছে। এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বেশির ভাগ দেশ রয়েছে।

তবে সব দেশের ক্ষেত্রে চিত্র একই নয়। নিউজিল্যান্ড, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, লিথুয়ানিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, টোগো ও আজারবাইজান ২০১৫ সালের আগে ডিকাপলিং অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে আবার জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর হয়ে পড়েছে।

আরও