এ সময় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১ শতাংশ। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকার। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার কারণে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতে গড়ে প্রায় ২৫৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৬২ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ১৬৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫১টির, কমেছে ১২২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও জিপিএইচ ইস্পাতের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১১ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১০ দশমিক ১ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ খাতে। এছাড়া পাট খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং বস্ত্র খাতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে একমাত্র ব্যাংক খাতে দশমিক ৭ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৪০৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৭৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৪৩৭ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৯০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৭১ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ৯১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির বাজারদর।