ব্রাজিলের যেসব রাজ্যে আগে কফি চাষ খুব একটা হতো না, সেসব অঞ্চলে এখন ক্যানিফোরা জাতের কফি (রোবাস্তা ও কনিলন অন্তর্ভুক্ত) চাষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কফির চড়া দাম এবং বাড়তি চাহিদার কারণে এখন লাভজনক এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। ব্রাজিলের কফি খাতের নেতা, গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃদু স্বাদের অ্যারাবিকা কফি উৎপাদনে ব্রাজিল বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষে। তবে ক্যানিফোরা বা রোবাস্তা কফি উৎপাদনে দেশটি এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। এ জাতের কফি মূলত এসপ্রেসো ও ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহার হয়। বর্তমানে রোবাস্তা উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে ব্রাজিল।
ব্রাজিলের এসপিরিতো সান্তো রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যানিফোরা কফি উৎপাদন হয়। তবে ২০২০ সাল থেকে মাতো গ্রোসো এবং মিনাস গেরাইসের মতো রাজ্যগুলোয় এর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মিনাস গেরাইসের কফি চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো স্নাইডার বলেন, ‘এ জাতের কফির চাহিদা বেড়েছে এবং চাষের জন্য পর্যাপ্ত জমিও রয়েছে। ফলে এ ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।’
গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে রোবাস্তা কফির দাম প্রতি টনে ৫ হাজার ৮৪৯ ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা কমলেও তা আগের তুলনায় বেশ উঁচুতে রয়েছে। এর প্রভাবে ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে ২০২৬ সাল নাগাদ ক্যানিফোরা উৎপাদন ৬ লাখ ২ হাজার ২০০ ব্যাগে পৌঁছতে পারে। এ উৎপাদন ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ বেশি।
ব্রাজিলের মাতো গ্রোসো রাজ্যটি সয়াবিন ও ভুট্টার জন্য পরিচিত হলেও এখন সেখানে কফি চাষে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। রাজ্যটির কৃষি গবেষণা সংস্থা এমপায়ের-এমটির কৃষিবিদ দালিলহিয়া নাজারে দস সান্তোস বলেন, ‘আমাদের গড় উৎপাদন এখন হেক্টরপ্রতি ২৩ ব্যাগ। অথচ প্রতিবেশী রনডোনিয়া রাজ্যে উৎপাদন হয় ৫০ ব্যাগ। আমাদের লক্ষ্য হলো উৎপাদনের এ পর্যায়ে পৌঁছানো।’
অন্যদিকে উত্তর ব্রাজিলের সিয়ারা রাজ্যটিও এখন কফি চাষের সম্ভাবনা যাচাই করছে।
রাজ্যটির কৃষি ব্যবসাবিষয়ক সচিব সিলভিও কার্লোস রিবেরো ভিয়েরা লিমা বলেন, ‘আমরা আশা করছি ২০২৬ সালের মধ্যে এক হাজার হেক্টর জমিতে কফি চাষ হবে। পরবর্তী সময়ে এ চাষ পাঁচ হাজার হেক্টরে উন্নীত হতে পারে। আধুনিক বন্দর ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সিয়ারা ভবিষ্যতে কফি রফতানির বড় কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।’