ব্রিটিশ রিটেইল খাত

২০২২ সালে দৈনিক গড়ে ৪৭টি দোকান বন্ধ

ব্রিটেনের খুচরা খাতের জন্য ২০২২ সালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে একটি নিষ্ঠুর বছর হিসেবে। পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুচরা দোকান বন্ধ হয়েছে গত বছর।

ব্রিটেনের খুচরা খাতের জন্য ২০২২ সালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে একটি নিষ্ঠুর বছর হিসেবে। পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খুচরা দোকান বন্ধ হয়েছে গত বছর। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা এবং অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতি ২০২৩ সালেও একইভাবে খুচরা খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সদ্য শুরু হওয়া নতুন বছরটিও চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করছে দেশটির শিল্প সম্প্রদায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সেন্টার ফর রিটেইল রিসার্চের (সিআরআর) বিশ্লেষণ অনুসারে, গত বছর প্রতিদিন গড়ে বন্ধ হয়েছে প্রায় ৪৭টি দোকান। জরিপে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের হাইস্ট্রিটসহ অন্যান্য স্থানে বন্ধ হয়ে যাওয়া মোট ১৭ হাজার ১৪৫টি দোকান খুঁজে পাওয়া গেছে। সংখ্যা কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন ২০২১ সালে বন্ধ হওয়া ১১ হাজার ৪৪৯টি দোকানের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

সিআরআরের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যজুড়ে খুচরা খাতে চাকরি হারিয়েছেন লাখ ৫১ হাজার ৪৭৪ জন কর্মী। তালিকায় অনলাইন খুচরা বিক্রেতারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংখ্যাও আগের বছর চাকরি হারানো লাখ হাজার ৭২৭টি কর্মসংস্থানের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

জরিপ থেকে উঠে আসা তথ্যে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা এক প্রকার দেউলিয়া হওয়ার কারণে হাজার ৫০৯টি দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া ১১ হাজার ৬৩৬টি বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান খরচ কমানোর কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিংবা কেবল ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ভালো হবেএমন ধারণা থেকে দোকানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

যদিও ১০টি বা এর চেয়ে বেশি সংখ্যক আউটলেট রয়েছে এমন বড় চেইন শপের খুচরা আউটলেট বন্ধের হার ৫৬ শতাংশ কমেছে। কারণ বিক্রি কমে যাওয়ায় আগের বছরগুলোতেই প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে অনেক কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।

বিষয়টি নিয়ে সিআরআরের পরিচালক অধ্যাপক জোশুয়া ব্যামফিল্ড বলেন, কোম্পানির ব্যর্থতার চেয়েও বাস্তব পরিস্থিতি ব্যবসা বন্ধের প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে। কারণ খুচরা বিক্রেতারা তাদের ব্যয়ের ভিত্তিতে ব্যবসায়িক খরচের পরিমাণ কমাচ্ছে। ২০২৩ সালেও প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর ১১ হাজার ৯০টি দোকান ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছামাফিক বন্ধ করে দেন। বিপরীতে বড় খুচরা বিক্রেতারা বন্ধ করেন হাজার ৫৫টি দোকান।

পরামর্শক সংস্থা আল্টাস গ্রুপ একটি জরিপে দেখেছে, তিন মাস ধরে খালি রয়েছে এমন দোকানগুলোর বিপরীতে এপ্রিল থেকে পরবর্তী কর বছর পর্যন্ত খুচরা বিক্রেতা বাড়িওয়ালাদের ব্যবসায়িক করহার হিসেবে ১১০ কোটি পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। আল্টাস গ্রুপের যুক্তরাজ্য শাখার প্রেসিডেন্ট রবার্ট হেয়টন বলেন, খালি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করতে অনেক বেশি সময় লাগে। তাই করমুক্ত সময়সীমা জরুরিভাবে বাড়ানো দরকার।

ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম বলেছে, ২০২২ সাল ভোক্তা খুচরা বিক্রেতা উভয়ের জন্যই ব্যতিক্রমধর্মী কঠিন বছর ছিল। এমনকি ২০২১ সালের তুলনায়ও গত বছর বিক্রির পরিমাণ কম ছিল।

২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি খাদ্যের দাম বছরে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ মূল্যস্ফীতিকে ঊর্ধ্বমুখী করে দেয়ায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।

আরও